বেঙ্গালুরু, শিবমোগা, কালবুর্গি এবং বেলগাভির পর এ বার হুব্বলির জেলে বন্দিদের জন্য ‘রিসর্টের’ মতো ব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠল কর্নাটকে। সূত্রের দাবি, এই জেলে বিচারাধীন বন্দিদের কাছে অবাধে পৌঁছে যাচ্ছে মদ, মাদকের মতো নেশার জিনিস। শুধু তা-ই নয়, বন্দিদের বিনোদনের জন্য রাখা হয়েছে টিভি, মোবাইল-সহ নানা রকম ব্যবস্থা। এ রকমই একটি ছবি এবং ভিডিয়ো ঘিরে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে কর্নাটকে (যদিও সেই ভিডিয়ো এবং ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
কী ভাবে বন্দিদের কাছে নেশার দ্রব্য পৌঁছোচ্ছে, তাঁদের বিনোদনের জন্য কারা সমস্ত রকম সহযোগিতা করছেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, তিন দিন আগেই হুব্বলির এই জেল পরিদর্শন করে গিয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি অলোক কুমার। তার পরই সেই জেলে বন্দিদের ব্যবস্থা নিয়ে ছবি, ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই অস্বস্তি বাড়ছে পুলিশ প্রশাসনের। ঘটনাচক্রে, হুব্বলি এবং ধারওয়ারের জেল পরিদর্শনের পরই ডিজি দাবি করেছিলেন যে, রাজ্যের জেলগুলিতে যাতে মাদকদ্রব্য প্রবেশ করতে না পারে, তা সুনিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু তাঁর এই দাবির তিন দিন পরেই হুব্বলির জেলের ভিডিয়ো এবং ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে বেঙ্গালুরুর জেলের ভিতরের বেশ কয়েকটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, এই ধরনের অপদার্থতা বরদাস্ত করা হবে না। কেউ ধর্ষণে সাজাপ্রাপ্ত। কেউ ‘সিরিয়াল কিলার’। কেউ আবার আইএস জঙ্গি। বেঙ্গালুরুর সেন্ট্রাল জেলে কুখ্যাত সব অপরাধী বহাল তবিয়তে রয়েছে। তাদের জন্য জেলের ভিতরেই ব্যবস্থা করা হয়েছে টিভি, ফোন— এ রকম নানা বিলাসের ব্যবস্থা। জেলের অন্দরের এমন বেশ কয়েকটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই হুলস্থুল পড়ে যায় গোটা কর্নাটকে। মন্ত্রী পরমেশ্বর বলেন, ‘‘যদি বন্দিরা জেলের ভিতরেই টিভি, ফোন— সব রকমের সুযোগ পায়, তা হলে জেল কিসের জন্য? সিসিটিভি, জ্যামার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু খুব সামান্য জায়গাতেই তা লাগানো হয়েছে।’’ বেঙ্গালুরুর সেন্ট্রাল জেলই নয়, তার পরেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠে শিবমোগা, কালবুর্গি এবং বেলগাভির জেলে। এ বার সেই তালিকায় জুড়ল হুব্বলি।