সকাল যদি দিনের পূর্বাভাস দেয়, তা হলে আজ বিল পেশের সময়ে ভোটাভুটির যে অঙ্ক সামনে এসেছে, তার ভিত্তিতে লোকসভায় আগামিকাল সংবিধান সংশোধনকারী মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করানো কঠিন। সেটা ঘরোয়া ভাবে মেনে নিচ্ছেন বিজেপি নেতারাও। এই পরিস্থিতিতে জয় নিশ্চিত করতে এক দিকে বিজেপি বিরোধীদের ঘর ভাঙানোর চেষ্টায় সক্রিয়। ঘর বাঁচাতে পাল্টা নেমেছে বিরোধী শিবিরও। এই টানাপড়েনের মধ্যে রাজনীতিকদের প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত এমন কোনও সূত্র কি সরকার পক্ষ বিরোধীদের দেবে, যাতে উভয়ের মুখরক্ষা হয়!
বর্তমানে লোকসভার সদস্য সংখ্যা ৫৪০। সংবিধান সংশোধনকারী বিল পাশ করাতে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন, অর্থাৎ ৩৬০টি ভোট। আজ সরকারের আনা তিনটি বিল পেশের সময়েই যে ভোটাভুটি হয়, তাতে শাসক শিবিরের পক্ষে ২৫১টি ভোট পড়ে। আগামিকাল বিল পাশের তোড়জোড়ে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সাংসদেরা রাতেই দিল্লি পৌঁছতে শুরু করেছেন। বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘‘সব মিলিয়ে আমাদের শক্তি হয়তো দাঁড়াবে ২৯৩-এর কাছাকাছি। ওয়াইএসআরসিপি আমাদের পক্ষে ভোট দিলে কোনও ভাবে তিনশোর কাছাকাছি পৌঁছতে পারে দল। তার পরেও ব্যবধান অনেকটাই।’’
আজকের ভোটাভুটিতে বিরোধীদের পক্ষে পড়েছে ১৮৫টি ভোট। তৃণমূলের আরও জনা পনেরো সাংসদ কাল ভোটাভুটিতে উপস্থিত থাকবেন। সে ক্ষেত্রে বিরোধীদের শক্তি সব মিলিয়ে ২০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা। বিরোধীদের পক্ষে কোন দলের কত জন সাংসদ কাল নিশ্চিত ভাবে ভোটাভুটির সময়ে উপস্থিত থাকবেন, তা আজ সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন কংগ্রেসের দীপেন্দ্র সিংহ হুডা এবং এনসিপি-র সুপ্রিয়া সুলে। যদিও শরদ পওয়ারের কন্যার ভূমিকা নিয়ে সংশয় রয়েছে তৃণমূল শিবিরে। কারণ শরদ কী চাল দেন তা আগে থেকে বোঝা সম্ভব নয়। উপরন্তু পওয়ারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে বিজেপি নেতৃত্বের।
মহারাষ্ট্রের আর এক বিরোধী, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার গতিপ্রকৃতিও চিন্তায় রেখেছে বিরোধী জোটকে। ওই দলের ৯ জন সাংসদ থাকলেও তার মধ্যে বেশ কিছু সাংসদ কাল অনুপস্থিত থাকতে চলেছেন বলে সূত্রের খবর। ভোটমুখী রাজ্য তামিলনাড়ুর শাসক দল ডিএমকে অবশ্য আজ জানিয়ে দিয়েছে, কাল তাদের প্রায় সব সাংসদ বিলের বিপক্ষে ভোট দিতে চলেছেন। ডিএমকে-র পক্ষে সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ ও অন্য সমমনস্ক দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্বে রয়েছেন তিরুচি শিবা। পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট— বিরোধীদের সমর্থন ছাড়া বিল পাশ করানো সম্ভব নয় সরকারের। তা হলে কি হেরে যাওয়ার জন্যই বিল এনেছে সরকার? বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘‘এখনও অনেক খেলা বাকি।’’ সূত্রের মতে, আজ নরেন্দ্র মোদী লোকসভায় বক্তব্য রাখার পরেই তাঁর ঘরে বৈঠকে বসেন রাজনাথ সিংহ, অমিত শাহ, জেপি নড্ডারা। মূলত বিরোধীদের কী ভাবে পাশে পাওয়া যায়, তা নিয়ে কথা হয়। সূত্রের মতে, বিরোধীদের একটি বড় অংশকে পাশে পেতে আজ সন্ধ্যা থেকেই সক্রিয় হন কিরেণ রিজিজু। একাধিক বিরোধী দলের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সরকারের লক্ষ্য হল, হয় বিরোধীদের পাশে পাওয়া, না হলে ভোটাভুটির সময়ে বেশ কিছু দল যাতে ওয়াকআউট করে, তা নিশ্চিত করা। আজ সন্ধ্যাতেই দক্ষিণের দলগুলিকে অমিত রীতিমতো সংখ্যা ধরে বুঝিয়েছেন যে, নতুন বিলে দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে শতকরা হিসাবে বর্তমান সংখ্যার অনুপাতেই আসন বৃদ্ধি হতে চলেছে। সরকারের একটি অংশের মতে, শেষ মুহূর্তে সরকার এমন কোনও সমীকরণ আনার কথা ভাবছে যাতে মুখরক্ষা হয় উভয় শিবিরেরই।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)