মেয়েদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখাতে ক্যারাটে প্রশিক্ষণ চালু করল শিলচর মহিলা মহাবিদ্যালয়।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে আজ এ কথা ঘোষণা করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ মনোজকুমার পাল। তিনি জানান, এটি ৬ মাসের সার্টিফিকেট কোর্স। ক্লাস হবে সপ্তাহে দু’দিন। আপাতত আগ্রহীদের মধ্যে থেকে ২৫ জনকে বাছাই করা হবে। সে জন্য প্রশিক্ষক নিযুক্ত করা হয়েছে। কোর্স কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কলেজের দুই শিক্ষিকা সর্বাণী বিশ্বাস ও সঙ্ঘমিত্রা জহুরিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ এমন প্রশিক্ষণের ভাবনা কেন? মনোজবাবু বলেন, ‘‘বর্তমান সামাজিক অবস্থা দেখেই মনে হয়েছে, মেয়েদের শুধু শিক্ষিত করলেই চলবে না। ঘরে-বাইরে ছুটোছুটির মত সাহসী মানসিকতাও তৈরি করা দরকার। কিন্তু আত্মবিশ্বাস ছাড়া তা একেবারে অসম্ভব। ক্যারাটে সেই আত্মবিশ্বাস গড়ে দেবে।’’
মনোজবাবু জানান, আপাতত একটি দলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া চালু হলেও, আগ্রহ দেখে তা আরও বাড়ানো যেতে পারে। পরবর্তী সময়ে কলেজের বাইরের মহিলাদেরও ওই প্রশিক্ষণ দিতে চান মনোজবাবু।
ক্যারাটে প্রশিক্ষক রমেশ ছেত্রীর দাবি, উত্তর-পূর্বের কোনও প্রাদেশিকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্যারাটে প্রশিক্ষণ এই প্রথম। কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি সমরকান্তি রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘নতুন ইতিহাস তৈরি হল শিলচরে।’’
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এ দিন সকালে মহিলা মহাবিদ্যালয় থেকে শহরে শোভাযাত্রাও বের হয়। শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে কলেজে আসার পর শুরু হয় অনুষ্ঠান। সেখানে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্যও মেয়েদের সাহস অবলম্বনের পরামর্শ দেন। তিনি একে আত্মপ্রত্যয় জাগিয়ে দেওয়ার লড়াই বলে উল্লেখ করেন।
এনসিসি ব্রিগেডিয়ার বি চট্টোপাধ্যায় জানান, মেয়েদের এখন সেনা অফিসার হওয়ারও সুযোগ রয়েছে। এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশ করে সরাসরি কমিশনড অফিসারের নিযুক্তি মেলে। তিনি ছাত্রীদের শৃঙ্খলাপরায়ণ ও নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষমতা অর্জনের পরামর্শ দেন।
শিলচর মহিলা কলেজ এ দিন ‘অস্মিতা’ নামে একটি বইও প্রকাশ করে। আনুষ্ঠানিক ভাবে সেটির আবরণ উন্মোচন করেন কবি-সাংবাদিক মহুয়া চৌধুরী। প্রকাশিত হয় কলেজের মাস কমিউনিকেশন বিভাগের ‘পত্রিকা দ্য উইমেনস পোস্ট’।
সুধীরচন্দ্র চক্রবর্তী অন্ধজন শিক্ষায়তনের ছাত্র-ছাত্রীরা অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন, তবলা বাজায়।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এ দিন শহরে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভার আয়োজন করে সারা ভারত মহিলা সাংস্কৃতিক সংগঠনও।