শিশুদের উপর যৌন নিগ্রহের মামলায় অভিযুক্তের লিঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ নয়। অভিযুক্ত মহিলা হওয়া মানেই সেই মামলা খারিজ হয়ে যায় না। সম্প্রতি এক পকসো (শিশুদের উপর যৌন নিগ্রহ সংক্রান্ত) মামলায় তা স্পষ্ট করে দিয়েছে কর্নাটক হাই কোর্ট।
ঘটনাটি ২০২০ সালের। অভিযোগ, ওই সময় বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সি এক মহিলা ১৩ বছর বয়সি প্রতিবেশী সন্তানকে যৌন হেনস্থা করেছেন। ওই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে বার বার কিশোরকে যৌন হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পাঁচ বছর আগের ওই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। তার পরই বেঙ্গালুরুর এক থানায় অভিযোগ দায়ের হয় মহিলার বিরুদ্ধে। পকসো আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। ওই মামলা খারিজের আর্জিতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন মহিলা।
অভিযুক্ত মহিলার আইনজীবীর দাবি, পকসো আইনে বেশ কিছু জায়গায় অভিযুক্তকে ‘হি’ (পুরুষ) বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এই যুক্তিতে মহিলার আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন, পকসো আইন শুধুমাত্র পুরুষ অভিযুক্তদের ক্ষেত্রেই কার্যকর হয়। পাশাপাশি, অভিযোগ দায়ের হতে দেরি হওয়া এবং নির্যাতিতের সঙ্গে অভিযুক্ত মহিলার বয়সের ফারাকের কথাও আদালতে তুলে ধরেন তিনি। তবে কোনও যুক্তিই আদালতে টেকেনি।
আরও পড়ুন:
কর্নাটক হাই কোর্টের বিচারপতি এম নাগপ্রসন্নের বেঞ্চ জানিয়েছে, পকসো আইন এবং সেটির ২০১৯ সালের সংশোধনী অনুযায়ী এটি একটি প্রগতিশীল এবং লিঙ্গ-নিরপেক্ষ আইন। এতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, আইনের ৪ এবং ৬ নম্বর ধারায় অপরাধগুলি শুধুমাত্র পুরুষের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। পাশাপাশি দেরিতে অভিযোগ দায়ের হওয়ার যুক্তিও খারিজ করে দিয়েছে আদালত। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, শিশু নির্যাতনের ঘটনার ক্ষেত্রে অভিযোগ দায়েরে এই ধরনের দেরি অস্বাভাবিক নয়।