Advertisement
E-Paper

দু’বছর আগে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ, মণিপুরের সেই কুকি তরুণীর মৃত্যু হল, পরিবারের আক্ষেপ, ‘বিচার পেল না’!

নির্যাতিতার মা বলেন, ‘‘আমার মেয়েটা প্রাণোচ্ছল এবং মিশুকে ছিল। ভাল ছিল পড়াশোনাতেও। কিন্তু ওরা বাঁচতে দিল না।’’ প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের মে-তে তরুণীকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩০
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

সাল ২০২৩। কুকি-মেইতেই সংঘর্ষে উত্তপ্ত উত্তর-পূর্বের রাজ্য মণিপুর। হিংসাদীর্ণ সেই মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল থেকে এক কুকি তরুণীকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল একদল দুষ্কৃতী। তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। গণধর্ষিত সেই তরুণীরই মৃত্যু হয়েছে গত ১০ জানুয়ারি। মেয়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার। তাদের আক্ষেপ, ‘‘বিচার পেল না আমাদের মেয়েটা।’’

নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, ধর্ষণের ঘটনার পর থেকে শারীরিক এবং মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তরুণী। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। দিন দিন আরও পরিস্থিতি সঙ্কটজনক হয়ে উঠেছিল। অবশেষে শনিবার মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। তরুণীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে ‘ইন্ডিজেনাস ট্রাইবাল লিডার্স ফোরাম’ (আইটিএলএফ)। তাঁর স্মৃতিতে মোমবাতি মিছিল করারও সিদ্ধান্তে নিয়েছে ফোরাম।

আইটিএলএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তরুণীকে লাঙ্গোলে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তার পর সেখানে তাঁকে গণধর্ষণ করে সঙ্কটজনক অবস্থায় বিষ্ণুপুরে ফেলে দিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। তারা আরও জানিয়েছে, তরুণী প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর শরীরে মারাত্মক আঘাত ছিল। মানসিক ভাবে পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পয়েছিলেন। গুয়াহাটিতে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ১০ জানুয়ারি নির্যাতিতার মৃত্যু হয়েছে।

নির্যাতিতার মা ‘নিউজ়লন্ড্রি’কে জানিয়েছেন, তাঁর কন্যার শরীরে গুরুতর আঘাতের কারণে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘‘আমার মেয়েটা প্রাণোচ্ছল এবং মিশুকে ছিল। কিন্তু ওরা বাঁচতে দিল না। পড়াশোনায় ভাল ছিল। ইম্ফলের এক আত্মীয়ের সঙ্গে বিউটি পার্লারে কাজ করত। ওর অনেক বন্ধুবান্ধব ছিল। ওদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টায় মজে থাকত। কিন্তু ওর জীবনে যে ভয়ানক বিপর্যয় নেমে এসেছিল, তার পর থেকে আমার হাসিখুশিতে থাকা মেয়েটা তিল তিল করে শেষ হয়ে গেল।’’

তাঁর সঙ্গে হওয়া ঘটনার কথা ২০২৩ সালের জুলাইয়ে এনডিটিভি-কে জানিয়েছিলেন নির্যাতিতা। অভিযোগ তুলেছিলেন মেইতেই গোষ্ঠীর দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার দু’মাস পর পুলিশের অভিযোগ দায়ের করতে পেরেছিলেন নির্যাতিতা। এফআইআরে তিনি উল্লেখ করেন, কালো পোশাকে চার জন এসে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় পাহাড়ি জঙ্গলে। তার পর তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়। নির্যাতিতা আরও বলেন, ‘‘সারা রাত ধরে আমার উপর অত্যাচার করা হয়। খেতে দেওয়া হয়নি। জল দেওয়া হয়নি। পর দিন সকালে ওয়াশরুমে যাওয়ার বাহানায় সেখান থেকে পালিয়ে এসেছিলাম।’’ তিনি জানান, জঙ্গল থেকে মূল রাস্তায় ওঠার পর এক অটোচালক তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। কোনও রকমে কাংপোকপি পর্যন্ত পোঁছোতে পেরছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে মে মাস থেকে মেইতেই-কুকি জনগোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মণিপুর। সেই হিংসায় ২৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

Manipur Violence
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy