গ্রেফতার হতে পারেন অমৃতপাল সিংহ। এ কথা বিয়ের আগে হবু স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন খলিস্তানি নেতা। কিন্তু সবটা জেনেও পিছপা হননি তাঁর জীবনসঙ্গী। অমৃতপালকেই বিয়ে করেছিলেন তিনি। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যে সত্যি সত্যি যে তাঁকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কল্পনাও করেননি কিরণদীপ কউর।
বৃহস্পতিবার অমৃতসর বিমানবন্দরে অমৃতপালের ঘরনিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন শুল্ক দফতরের আধিকারিকরা। লন্ডন যাওয়ার পথে কিরণদীপের পথ আটকান তাঁরা। খলিস্তানি নেতা অমৃতপাল এখনও পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাঁর খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। অমৃতপালের একাধিক সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এই আবহে এ বার খলিস্তানি নেতার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করল শুল্ক দফতর। কিরণদীপ বলেছেন, ‘‘এই পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে যাচ্ছি না।’’
আরও পড়ুন:
কিরণদীপ অনাবসী ভারতীয়। থাকেন ব্রিটেনে। সমাজমাধ্যমে অমৃতপালের ভিডিয়ো দেখে প্রেমে পড়েছিলেন কিরণদীপ। ‘দ্য উইক’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিরণদীপ জানিয়েছিলেন যে, ১ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইনস্টাগ্রামে অমৃতপালকে ‘ফলো’ করতেন তিনি। তার পরই প্রশংসা করে অমৃতপালকে মেসেজ করেছিলেন কিরণদীপ।
অনাবাসী হওয়া সত্ত্বেও কিরণদীপ নিরামিষাশী এবং মদ্যপান করেন না। ধার্মিক নারী তিনি। আর এ জন্যই কিরণদীপকে পছন্দ হয়েছিল অমৃতপালের। এর পরই দু’জনের মনের আদানপ্রদান হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিয়ে হয়েছিল তাঁদের। আর ক’মাসের মধ্যেই অমৃতপালকে গ্রেফতার করতে উঠেপড়ে লেগেছে পুলিশ। বিয়ের আগে অবশ্য কিরণদীপকে অমৃতপাল জানিয়েছিলেন যে, কোনও এক দিন হয়তো তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। তবে অমৃতপালের সেই আশঙ্কা যে বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই সত্যি হবে, তা ভাবতে পারেননি কিরণদীপ।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবারের আগেও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখ হয়েছেন কিরণদীপ। গত ২২ মার্চ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পঞ্জাব পুলিশ। সেই সময় অমৃতপালের বাবা এবং মাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। অমৃতপালের কাজকর্মে বিদেশি অর্থ সাহায্যের অভিযোগে সেই সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিরণদীপ। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি এই পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে যাচ্ছি না। এখানে বৈধ ভাবেই রয়েছি। এটাও আমার বাড়ি এখন। আমি এখানে ১৮০ দিন থাকতে পারি। নির্দিষ্ট সময়ের পর থাকব না।’’ ভারতে ৬ মাস থাকার পর অতীতেও ব্রিটেন গিয়েছিলেন কিরণদীপ। পঞ্জাব পুলিশ সূত্রে খবর, ব্রিটেনের নাগরিক কিরণদীপ। সে দেশের পাসপোর্ট রয়েছে তাঁর। পঞ্জাব এবং ভারতের অন্য রাজ্যে অমৃতপালের স্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই।