ঘোষণা ছিল বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের জবাবি বক্তৃতা করবেন। কিন্তু বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যে স্পিকার ওম বিড়লা সভা মুলতুবি করে দেওয়ায় সেই বক্তৃতা বাতিল হয়ে যায়। বিরোধীরা বৃহস্পতিবার এ নিয়ে প্রশ্ন তুললে অভিনব ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিড়লা।
লোকসভার স্পিকার বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘আমার কাছে সুনির্দিষ্ট খবর ছিল, কংগ্রেস সাংসদেরা সভায় অপ্রত্যাশিত আচরণ করতে পারেন। তাই প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আসতে নিষেধ করেছিলাম। ঘটনাচক্রে, বৃহস্পতিবারও লোকসভায় গরহাজির ছিলেন বারাণসীর সাংসদ মোদী। লোকসভায় ধ্বনিভোটে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাব পাশ করিয়ে নেয় শাসকপক্ষ। যদিও রাজ্যসভায় প্রস্তাবের পক্ষে বক্তৃতা করেছেন মোদী। কিন্তু সেখানে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলের সাংসদদের একাংশ ভারত-মার্কিন প্রস্তাবিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে স্লোগান তুললেও কোনও ‘অপ্রত্যাশিত আচরণ’ চোখে পড়েনি।
আরও পড়ুন:
যদিও বৃহস্পতিবার বিড়লা দাবি করেন, কংগ্রেসের একাধিক সাংসদ প্রধানমন্ত্রী যে আসনে বসেন সেখানে জোর করে পৌঁছোনোর চেষ্টা করতে পারেন বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘‘এমন ঘটনা ঘটলে তা দেশের গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পক্ষে ভয়াবহ হত। সেই কারণেই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রীকে সভাকক্ষে না আসতে বলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’’ ঘটনাচক্রে, বুধবার সকালেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী সভায় গরহাজির থাকবেন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘যদি প্রধানমন্ত্রী আসেন, আমি সশরীরে তাঁর কাছে যাব এবং নিজের হাতে বইটি (প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবণের ‘অপ্রকাশিত’ বই) দেব, যাতে উনি তা পড়তে পারেন এবং গোটা দেশ সত্যটা জানতে পারে।’’ এর পরেই রাহুল দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী বুধবার সভায় আসবেন না। তাঁর সেই ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ মিলেও যায়।