E-Paper

ই-সিগারেট: সাংসদ পদ খারিজ হতে পারে, সতর্কতা স্পিকারের

গত শীতকালীন অধিবেশনে লোকসভার ভিতরে এক তৃণমূল সাংসদ ই-সিগারেট খেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর। গোড়ায় ওই তৃণমূল সাংসদের নাম অনুরাগ নেননি। পরে বিজেপির পক্ষ থেকে যে ভিডিয়ো জারি করা হয়, তাতে তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদকে লোকসভায় নিজের আসনে বসে কিছু একটি টানতে দেখা যায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৮
কীর্তি আজাদ।

কীর্তি আজাদ। —ফাইল চিত্র।

ই-সিগারেট কাণ্ডে অভিযুক্ত তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানালেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে, ওই সাংসদের সাংসদ পদ চলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করে রাখলেন তিনি। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার বাজেট পেশ হবে সংসদে। বিড়লা আশা করছেন, আসন্ন বাজেটে অধিবেশনেই এ নিয়ে কমিটি রিপোর্ট দেবে।

গত শীতকালীন অধিবেশনে লোকসভার ভিতরে এক তৃণমূল সাংসদ ই-সিগারেট খেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর। গোড়ায় ওই তৃণমূল সাংসদের নাম অনুরাগ নেননি। পরে বিজেপির পক্ষ থেকে যে ভিডিয়ো জারি করা হয়, তাতে তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদকে লোকসভায় নিজের আসনে বসে কিছু একটি টানতে দেখা যায়। গোটা ঘটনাটির যথাযথ তদন্তের দাবি ও সংসদের গরিমা নষ্টের জন্য অবিলম্বে কীর্তি আজাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে আর্জিজানান অনুরাগ।

ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বর্তমানে তা হায়দরাবাদের কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। আজ এ প্রসঙ্গে স্পিকার ওম বিড়লা বলেন,‘‘ওখান থেকে রিপো‌র্ট আসার পরেই বিষয়টি নির্দিষ্ট কমিটির কাছে পাঠানো হবে। সেই কমিটি যে রিপোর্ট দেবে, তার ভিত্তিতে সাংসদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংসদের একটি নিয়ম রয়েছে। প্রত্যেককে সেই নিয়ম মেনে চলতে হয়। নিয়ম ভাঙলে সংসদীয় প্রণালীতে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে যে ব্যবস্থা রয়েছে, তা মেনেই শাস্তি দেওয়া হবে।’’ তৃণমূলের সাংসদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এথিক্স না স্বাধিকার কমিটির কাছে যাবে, তা স্পষ্ট করেননি বিড়লা। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংসদ নিজের পদ হারাতে পারেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তিনি। সার্বিক ভাবে ওই ঘটনায় অস্বস্তিতে তৃণমূল। বিষয়টি নিয়ে দলের বক্তব্য, ভিডিয়ো ফুটেজের সত্যতা আগে প্রমাণিত হোক। তার পরে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।

ছ’বছর স্পিকার পদে থাকাকালীন সংসদ সচিবালয়ে এক জন ব্যক্তিও নতুন চাকরি পাননি বলে দাবি করে বিতর্ক সৃষ্টি করেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘‘গত ছ’বছরে বাজেটে বরাদ্দ করা অর্থ থেকে আটশো কোটি টাকা বাঁচাতে পেরেছি। যার জন্য সচিবালয়ের কোনও সরকারি পদে নিয়োগ হয়নি।’’ প্রশ্ন ওঠে যুব সমাজ যখন চাকরি চেয়ে পথে নেমেছে, খোদ অমিত শাহ চাকরি বণ্টনে রাজস্থানে গিয়েছেন, তখন সংসদীয় সচিবালয়ে সরকারি নিয়োগ বন্ধ হয়ে যাওয়াকে কী ভাবে নিজের সাফল্য হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারেন স্পিকার? পরে স্পিকার নিজের যুক্তিতে বলেন, ‘‘সরকারি চাকরি না হলেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কিন্তু হয়েছে।’’

সম্প্রতি ঘৃণা ভাষণ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল ইলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারপতি শেখর কুমার যাদবের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে অপসারণের প্রস্তাব আনেন বিরোধীরা। বিষয়টি এখন সংসদীয় কমিটির হাতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিড়লা। অন্য দিকে, দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি থাকাকালীন যশোবন্ত বর্মার বাড়িতে নগদ অর্থ পাওয়ার মামলাটি বর্তমানে আদালতের হাতে রয়েছে। তাই স্পিকার কোনও মন্তব্য করতে চাননি বর্মা প্রসঙ্গে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

kirti azad Parliament Winter Session winter session of parliament

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy