বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতৃত্ব দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ফের এক বার উঠে এল সেই দাবি। এ বার মমতাকে বিরোধী জোটের 'মুখ' করার দাবি তুললেন বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতা মণিশঙ্কর আইয়ার। সম্প্রতি উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনাও সেই একই দাবিতে সরব হয়েছে।
বিজেপিবিরোধী জোটের নেতৃত্বের আসনে কেন রাহুল গান্ধী বসে রয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন বিক্ষুব্ধ এই নেতার। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মন্তব্যে কংগ্রসকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন মণিশঙ্কর। দলের অন্দরে তাঁকে নিয়ে বিতর্কও কম নেই। রবিবার কলকাতায় সেই বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতা ফের এক বার খোঁচা দিলেন রাহুল গান্ধীকে। একই সঙ্গে তুলে ধরলেন বিরোধী জোটের মুখ হিসাবে তৃণমূলনেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর নামও।
মণশঙ্করের দাবি, বিরোধী জোটের নেতৃত্বের আসন থেকে সরে যাওয়া উচিত রাহুলের। পরিবর্তে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতাকে এই আসনে দেখতে চান তিনি। কিংবা, অন্য কোনও আঞ্চলিক দলের নেতাকে। মণিশঙ্করের কথায়, "মমতাই এই বিরোধী শিবিরের নেত্রী। তাঁকে ছাড়া বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র ‘আই’, ‘এন’, ‘ডি’, ‘আই’, ‘এ’— কোনওটাই আর থাকত না।"
বিরোধী জোট প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই জোটের নেত্রী। তাঁর সঙ্গে আরও দুই-চারজন আছেন, যাঁরা এই পদে বসতে পারেন।” তিনি আরও বলেন, “আমি চাই ছোট দলগুলির— স্ট্যালিন, মমতা দিদি, অখিলেশ, তেজস্বী বা অন্য কারও এই পদে আসা উচিত। পদ আঁকড়ে থাকার বদলে রাহুল গান্ধীর উচিত বিষয়টি তাঁদের সামলাতে দেওয়া।” সম্প্রতি কেরলের মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা পিনরাই বিজয়নেরও প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছে এই বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতাকে। এ বার কলকাতায় এসে তৃণমূলনেত্রী মমতার প্রশংসায় মণিশঙ্কর।
আরও পড়ুন:
ঘটনাচক্রে, এমন এক দিনে মণিশঙ্করের এই মন্তব্য করলেন, যখন কৃত্রিম মেধা সম্মেলনে যুব কংগ্রেস কর্মীদের আচরণের নিন্দা জানিয়েছে তৃণমূল। বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র অন্যতম শরিক তৃণমূল ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ওই আচরণের ফলে সারা বিশ্বের সামনে দেশের সম্মানহানি হয়েছে। এই ধরনের কর্মসূচিকে ‘দুর্বল বিচারবুদ্ধির প্রতিফলন’ বলে বর্ণনা করেছেন তৃণমূল নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।
সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া’-র নেতৃত্বের প্রসঙ্গে তৃণমূলনেত্রী মমতা এবং ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিনের নাম তুলে ধরেছিল উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা। শিবসেনার মুখপত্রের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, বিরোধী মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’-কে অভিন্ন দিশা ও নেতৃত্ব নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে। সে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হোন বা স্ট্যালিন কিংবা অন্য কোনও ব্যক্তি, যিনি জাতীয় সঙ্কট সামলাতে পারবেন।