শনিবার গভীর রাতে আফগানিস্তানের পকতিকার বরমল জেলায় এক মাদ্রাসায় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কাবুল। এই অবস্থায় আফগানিস্তানের পাশে থাকার বার্তা দিল নয়াদিল্লি। সঙ্গে পাকিস্তানের তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। রবিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।
এক্স হ্যান্ডলে রণধীর লেখেন, “পবিত্র রমজান মাসে আফগান-ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে ভারত। এই হামলার ফলে মহিলা ও শিশু-সহ বহু প্রাণহানি হয়েছে। এই ঘটনায় গভীর ভাবে শোকাহত ভারত।” তিনি আরও লেখেন, “এই ঘটনাটি পাকিস্তান সরকারের ব্যর্থতাকে ফের প্রকাশ্যে এনেছে।” রণধীর জানান, আফগানিস্তানের পাশে আছে ভারত।
অন্য দিকে, পাকিস্তানের দাবি, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সীমান্ত সংলগ্ন জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া। আর সেটাই করা হয়েছে। আফগানিস্তানের পকতিকা, নঙ্গরহার এবং খোস্ত প্রদেশে অন্তত সাতটি গোপন জঙ্গিঘাঁটিতে সামরিক অভিযান চালানো হয় এবং অন্তত ৭০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি পাকিস্তানের। যদিও তালিবান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের শেহজাদ টাউন এলাকার শিয়া টারলাই ইমামবাড়ার শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অনেকে নিহত হন। এর পর শনিবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু এলাকায় পাকিস্তানের এক সেনাকর্মী ও এক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিহত হওয়ার পর তারা আফগানিস্তানে এই অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের দাবি, সে দেশে একের পর এক হামলার নেপথ্যে রয়েছে আফগানিস্তানের তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (যাকে পাকিস্তান সরকার ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’ বলে) এবং ইসলামিক স্টেট অফ খোরসান প্রভিন্স।
আরও পড়ুন:
এই হামলার পর কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে তালিবান সরকার। এই হামলার জবাব যে সময়মতো দেওয়া হবে, তালিবান প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা সেই ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন।
পাকিস্তানের এই হামলার পরই তালিবান প্রশাসনের কর্তারা জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক ডেকেছেন। মনে করা হচ্ছে, রণকৌশল ঠিক করতেই এই বৈঠক। তবে সূত্রের দাবি, হামলার জবাব যে দেওয়া হবে সেই ইঙ্গিত দিলেও, এখনই তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না তালিবান প্রশাসন। তবে এই হামলাকে ঘিরে দু’দেশের সীমান্তে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে।
আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। গত বছর থেকেই দুই দেশের সীমান্ত-উত্তেজনা বাড়তে থাকে। উল্লেখ্য, গত বছর অক্টোবরে এক সশস্ত্র সংঘর্ষে পাকিস্তানের ২৩ জন এবং আফগান তালিবানের ২০০-এর বেশি সদস্য নিহত হয়েছিল। এর পর ইসলামাবাদের মসজিদে গত ৬ ফেব্রুয়ারি আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ হয়েছিল। তাতে মৃত্যু হয় ৩১ জনের।