Advertisement
E-Paper

বিস্ফোরণ, গণহত্যা, সেনাছাউনিতে হানা! মাডবী হিডমার ঘনিষ্ঠ মাওবাদী নেতার আত্মসমর্পণ

আদিবাসী নেতা হিসাবে উত্থান দর্শনের। ২০০৩ সালে চরমপন্থী আন্দোলনের পথে হাঁটা শুরু করেন তিনি। দু’দশকের বেশি সময় ধরে ভারতে সক্রিয় ভাবে মাওবাদী আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছেন দর্শন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪৯
আত্মসমপর্ণ করলেন মাওবাদী নেতা বারসে দেবা।

আত্মসমপর্ণ করলেন মাওবাদী নেতা বারসে দেবা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

৪৮ বছর বয়সি মাওবাদী নেতা বারসে দেবা ওরফে বারসে সুক্কা ওরফে দর্শন আত্মসমর্পণ করলেন। শনিবার হায়দরাবাদে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিজের অস্ত্র সমর্পণ করেন তিনি। এক সময়ে মধ্য ভারতের জঙ্গল এলাকা ছিল তাঁর দখলে। সেই দর্শনের আত্মসমর্পণ মাওবাদী-বিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য বলে মনে করছেন অনেকে।

আদিবাসী নেতা হিসাবে উত্থান দর্শনের। ২০০৩ সালে চরমপন্থী আন্দোলনের পথে হাঁটা শুরু করেন তিনি। দু’দশকের বেশি সময় ধরে ভারতে সক্রিয় ভাবে মাওবাদী আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছেন দর্শন। ১২০ জনের বেশি নিরাপত্তাকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে খুন বা খুনের ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে নাম জড়িয়েছে তাঁর। বস্তার অঞ্চলে যে সব মাওবাদী নেতারা সক্রিয় ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম দর্শন।

শনিবার তেলঙ্গানার ডিজিপি শিবধর রেড্ডির হাত ধরে জীবনের মূলস্রোতে ফিরলেন দর্শন। ৪৮টি হালকা মেশিনগান (এলএমজি) এবং প্রায় ২০ লক্ষ টাকা বেশি মূল্যের অন্য অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। ছত্তীসগঢ়ের সুকমা জেলার পুভার্থী গ্রামের বাসিন্দা। দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে সক্রিয় আন্দোলনে যোগ দেন। প্রথমে নিজের জাতি ও সম্প্রদায়ের অধিকারের লড়াই করতেন। তার পরে সক্রিয় ভাবে যোগ দেন ভারতে নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-তে। পিএলজিএ ব্যাটালিয়ন-১-এর কমান্ডার ছিলেন তিনি।

২০০০ সালে দণ্ডকারণ্য আদিবাসী কিষাণ মজদুর সঙ্ঘের সদস্য হন দর্শন। পরে এই সংগঠনের রাজ্য কমিটির সদস্যও হন। মাওবাদীদের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত দক্ষিণ বস্তার, দন্তেওয়াড়া এবং সুকমা এলাকায় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। নিহত মাওবাদী নেতা মাডবী হিডমার ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত ছিলেন।

দেশ জুড়ে বিভিন্ন হামলার ঘটনার নেপথ্যে দর্শনের যোগ বার বার উঠে এসেছে। আইইডি বিস্ফোরণ থেকে নিরাপত্তাবাহিনীর ছাউনিতে হামলার পরিকল্পনায় তিনি ওতপ্রোত ভাবে জড়িত থাকার অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছে। বছরের পর বছর ধরে তিনি ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মাওবাদী নেতাদের তালিকায় ছিলেন। ছত্তীসগঢ় পুলিশ তাঁর মাথার দাম ৫০ লক্ষ টাকা রেখেছিল আর তেলঙ্গানা পুলিশ ২৫ লক্ষ ঘোষণা করেছিল। দেশের বেশ কয়েকটি বড় বড় মাওবাদী হামলার নেপথ্যে দর্শনের যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে তেলঙ্গানা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।

২০১৩ সালের মে মাসে ঝিরম ঘাঁটিতে কংগ্রেস নেতাদের গাড়িতে হামলার নেপথ্যে ছিলেন দর্শন। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মহেন্দ্র কর্ম এবং ছত্তীসগঢ় কংগ্রেসের প্রধান নন্দকুমার পটেল-সহ ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ধর্মরাম এবং জিরামগুদা নিরাপত্তাবাহিনীর ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এই হামলায় ১২১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য।

Maoist Leader surrender
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy