Advertisement
E-Paper

বিবাহিত পুরুষ পারস্পরিক সম্মতিতে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকলে তা অপরাধ নয়, পর্যবেক্ষণ এলাহাবাদ হাই কোর্টের

উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের এক দম্পতি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। দাবি, লিভ-ইন সম্পর্কে থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ১৫:৩৫
Married man in consensual live-in relationship is not a crime. said Allahabad High Court

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

কোনও বিবাহিত পুরুষ যদি কোনও প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতিতে একত্রবাস (লিভ-ইন) করেন, তবে তা অপরাধ নয়! একটি মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ এলাহাবাদ হাই কোর্টের। আদালত নির্দেশে জানিয়েছে, একত্রবাসকারী ওই যুগলের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা করা যাবে না। সেই সঙ্গে পুলিশকে তাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের এক লিভ-ইন যুগলের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল মহিলার পরিবার। লিভ-ইন সম্পর্কে থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। কারণ পুরুষ সঙ্গীটি বিবাহিত। আদালত তার পর্যবেক্ষণে ‘নৈতিকতা’ এবং আইনকে আলাদা রাখার উপর জোর দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, আইন অনুযায়ী ওই ব্যক্তি কোনও অপরাধ করেননি বলেই মনে হচ্ছে। আদালত আরও বলেছে, নাগরিকদের অধিকার রক্ষার জন্য গৃহীত পদক্ষেপ কখনই সামাজিক মতামত বা নৈতিকতা দিয়ে পরিচালিত হতে পারে না।

আদালত পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে, আবেদনকারীদের গ্রেফতার করা যাবে না। শুধু তা-ই নয়, পরিবারকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা যেন কোনও ভাবে ওই যুগলের ক্ষতি করতে না-পারে তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে। এ ছাড়াও, দুই পরিবারের কেউ ওই যুগলের বাড়িতে প্রবেশ বা যোগাযোগ করতে পারবেন না, আদালত নির্দেশে জানিয়েছে। আদালতের মতে, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের।

আদালতে আবেদন করেছিলেন অনামিকা এবং নেত্রপাল। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৮ জানুয়ারি অনামিকার মা কান্তি শাহাজানপুরের জৈতিপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ‘প্রলোভন’ দেখিয়েছেন নেত্রপাল। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৮৭ ধারায় মামলাটি রুজু হয়। সেই মামলাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন লিভ-ইন যুগল। হাই কোর্টে জানানো হয়, তাঁরা দু’জনেই প্রাপ্তবয়স্ক। বর্তমানে পারস্পরিক সম্মতিতে একত্রবাস করছেন। যদিও অনামিকার মায়ের অভিযোগ ছিল, নেত্রপাল বিবাহিত। সে ক্ষেত্রে অন্য মহিলার সঙ্গে সহবাস করা ফৌজদারি অপরাধ। তবে শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ, নেত্রপাল সত্যিই যদি পারস্পরিক সম্মতিতে কোনও প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে একত্রবাস করেন, তবে তা ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে না।

এলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারপতি জেজে মুনির এবং বিচারপতি তরুণ সাক্সেনার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। আদালত জানিয়েছে, আবার ৮ এপ্রিল এই মামলা শুনবে।

Live-In Relationship Allahabad High Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy