E-Paper

হরিদ্বার থেকে মাংসের দোকান সরাতে প্রস্তাব আনছে পুরসভা

বিজেপি-শাসিত উত্তরাখণ্ড ইতিমধ্যেই আরএসএস-বিজেপির কর্মসূচি মেনে দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করেছে। পাশাপাশি বিজেপি-শাসিত হরিদ্বার পুরসভা ইতিমধ্যেই হরিদ্বারের বিখ্যাত ‘হর কি পৌড়ি’ ঘাটে অহিন্দুদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৩

—প্রতীকী চিত্র।

হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে যাতে আঘাত না লাগে, সে জন্য আগামী বছর অর্ধ কুম্ভ মেলার আগে হরিদ্বার শহরের সমস্ত মাংসের দোকান শহরের বাইরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিজেপি-শাসিত হরিদ্বার পুরসভা। শহরের মেয়র কিরণ জয়সওয়াল জানিয়েছেন, এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ইতিমধ্যেই খসড়া আকারে তৈরি হয়েছে। আগামী সপ্তাহে পুরসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি পেশ করা হবে। সেটি অনুমোদিত হলে হরিদ্বার শহরের অভ্যন্তরে থাকা সমস্ত মাংসের দোকান সরিয়ে শহরতলির সরাই গ্রামে স্থানান্তর করা হবে।

বিজেপি-শাসিত উত্তরাখণ্ড ইতিমধ্যেই আরএসএস-বিজেপির কর্মসূচি মেনে দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করেছে। পাশাপাশি বিজেপি-শাসিত হরিদ্বার পুরসভা ইতিমধ্যেই হরিদ্বারের বিখ্যাত ‘হর কি পৌড়ি’ ঘাটে অহিন্দুদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ‌কই ভাবে গঙ্গোত্রীতে তীর্থযাত্রীদের বাধ্যতামূলক পঞ্চগব্য (গোবর-গোমূত্র-দুধ-দই-মধুর মিশ্রণ) খাওয়ার নিয়ম চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে মন্দির কমিটি।

কমিটির বক্তব্য, অহিন্দুদের মন্দিরে ঢোকা আটকাতেই এই নিয়ম করা হতে চলেছে। এই নিয়ম গঙ্গোত্রীতে চালু হলে পরবর্তী সময়ে চারধাম-সহ রাজ্যের প্রতিটি মন্দিরের ক্ষেত্রেই এই ব্যবস্থা চালু করা হতে পারে বলে মন্দির কমিটির একটি সূত্রের খবর। এর মধ্যেই অর্ধকুম্ভকে সামনে রেখে হরিদ্বার শহর থেকে সমস্ত মাংসের দোকান বাইরে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব আনল পুরসভা।

এমনিতে হরিদ্বারে বরাবরই মাছ-মাংস-ডিম বা কোনও আমিষ খাবার এবং মদ নিষিদ্ধ। হরিদ্বার পুরসভার বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, হর কি পৌড়ি-কে কেন্দ্র করে ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মাছ-মাংস-ডিম-মদ বিক্রি ও খাওয়া নিষিদ্ধ। তবে সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অবৈধ মাংসের দোকান চলছে। মেয়রের দাবি, পুরসভা মাত্র ২০টি মাংসের দোকানকে লাইসেন্স দিলেও বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি দোকান বেআইনি ভাবে ব্যবসা করছে। মেয়র কিরণ জয়সওয়াল জানান, এই অবৈধ দোকানগুলির জন্য শুধু শহরের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হচ্ছে না, পথকুকুরের সমস্যাও বাড়ছে। প্রস্তাব পাশ হলে এই ধরনের দোকানের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জরিমানাও করা হবে। এ ছাড়াও, শহরের হোটেল ও রাস্তার ধারের খাবারের দোকানগুলিতে রান্না করা মাংস পরিবেশন করা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে খবর।

হরিদ্বার পুরসভার এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন মহন্ত রবীন্দ্র পুরী, আচার্য অযোধ্যা প্রসাদ শাস্ত্রী-সহ একাধিক স্বঘোষিত ধর্মগুরু। রবীন্দ্র পুরী জানিয়েছেন, অর্ধ কুম্ভ মেলার সময় কোটি কোটি লোক হরিদ্বারে আসবেন। সেই সময় শহরে মাছ-মাংস বা মদের দোকান তাঁদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানতে পারে। রাজ্যের মুখ্যসচিব আনন্দ বর্ধনও জানিয়েছেন, কুম্ভ মেলার সময় যাতে কোনও ভাবেই ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Haridwar

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy