Advertisement
E-Paper

গাঁধী পরিবারকে তোপ প্রধানমন্ত্রী মোদীর

সামনে সংসদের বাজেট অধিবেশন। সেই সঙ্গে শিয়রে পাঁচ রাজ্যের ভোট। তার আগে কেন্দ্রে সরকারের যাবতীয় অপরাগতার দায় আজ অবলীলায় গাঁধী পরিবারের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:২৭
মরানের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশে সর্বানন্দ সোনোওয়াল (বাঁ দিকে)। — নিজস্ব চিত্র।

মরানের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশে সর্বানন্দ সোনোওয়াল (বাঁ দিকে)। — নিজস্ব চিত্র।

সামনে সংসদের বাজেট অধিবেশন। সেই সঙ্গে শিয়রে পাঁচ রাজ্যের ভোট। তার আগে কেন্দ্রে সরকারের যাবতীয় অপরাগতার দায় আজ অবলীলায় গাঁধী পরিবারের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, স্রেফ একটি পরিবার নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য দেশের তামাম গরিবকে ভাতে মারছে। কৃষক মজুরদের ভালোর জন্য সরকারের আনা কোনও বিলই রাজ্যসভায় পাশ হতে দিচ্ছে না কংগ্রেস!

অসমের ডিব্রুগড়ে আজ বহু প্রতীক্ষিত গ্যাস ক্র্যাকার প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে সে ছিল পোশাকি কারণ। মূল উদ্দেশ্য সরকারি প্রকল্পের মঞ্চকে ব্যবহার করে ভোটের প্রচার শুরু করে দেওয়া এবং সেখান থেকেই আজ গাঁধী পরিবারের দিকে নিশানা করেন মোদী!

যদিও প্রধানমন্ত্রীকে আগের মতো ফাঁকা মাঠ ছেড়ে দেয়নি কংগ্রেস। বরং প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দেন খোদ রাহুল গাঁধী। ইউপিএ জমানায় শুরু হওয়া সামাজিক প্রকল্পগুলি মোদী জমানায় কী দশায় রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে আজ দিল্লিতে সব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিকে আলোচনায় ডেকেছিলেন রাহুল। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী কিছুই করে দেখাতে পারছেন না। কৃষক কাঁদছে, মজুর কাঁদছে এমনকি দেখে অবাক হচ্ছি শিল্পপতিরাও এখন কাঁদছেন। আর প্রধানমন্ত্রী কাজ না করে রোজ নতুন বাহানা খুঁজছেন। এই জন্যই কি মোদীকে জিতিয়েছিলেন মানুষ!’’

রাজনৈতিক সূত্রের মতে, মোদী তথা বিজেপি-র কৌশল এখন পরিস্কার। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার সাড়ে চার বছর পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন তামাম ব্যর্থতার জন্য অতীতে বাম শাসনকে দায়ী করেন। বিজেপি-ও এখন সেই পথ নিয়েছে। কেন্দ্রে মোদী সরকার পত্তনের পর প্রায় দু’বছর অতিবাহিত। এর মধ্যে দৃশ্যত কোনও ফারাক গড়তে পারেনি বিজেপি। তাই ইউ পি এ জমানায় অপশাসনটাই এখনও তাঁদের পুঁজি। তাছা়ড়া সংসদের বাজেট অধিবেশন আসছে। সেখানে কংগ্রেস যাতে এ বারও গোল না বাধায় সেজন্যও তাদের ওপর চাপ তৈরি করতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী। বিপরীতে সামাজিক প্রকল্পে বরাদ্দ ছাঁটা থেকে শুরু করে কেন্দ্রের ব্যর্থতার বিষয়গুলি বেশি করে খুঁচিয়ে তুলতে চাইছেন রাহুল গাঁধী। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিদের দিল্লিতে ডেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সেই প্রচারটাই গড়ে তোলার জন্য আজ নির্দেশ দেন রাহুল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোদী-রাহুলের এই দ্বৈরথের প্রতিফলন যেমন এবার বাজেট অধিবেশনে দেখা যাবে, তেমনই দেখা মিলবে বিধানসভার ভোট প্রচারের ময়দানে। আজ যেমন অসমে প্রচারে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তেমনই তিন বাদে কেরল সফরে যাচ্ছেন রাহুল। তার পর সামনের সপ্তাহে দু’দিনের জন্য অসম সফরে যাবেন কংগ্রেস সহ সভাপতি। আবার ১০ ফেব্রুয়ারি অমিত শাহ অসমে আসছেন।

যেভাবে আজ সরকারি অনুষ্ঠানকে ভোটের প্রচারের জন্য মোদী ব্যবহার করেছেন তাও দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন। রাজ্যস্তরে মুখ্যমন্ত্রীরা এরকম করেই থাকেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের রাজনীতির নমুনা হালফিলে বিরল। মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে কদিন আগেই প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালের নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। আজ ডিব্রুগড়ের লেপেটকাটায় ব্রহ্মপুত্র গ্যাস ক্র্যাকার অ্যান্ড পলিমার লিমিটেড ও নুমানিগড় ওয়্যাক্স প্ল্যান্টের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের সামনেই প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘‘রাজ্যে আনন্দ আনতে গেলে সর্বানন্দ আনুন!’’

১৯৮৫ সালে কেন্দ্রে রাজীব গাঁধী জমানায় সই হওয়া অসম চুক্তিতে গ্যাস ক্র্যাকার প্রকল্পের দাবি ছিল। সেই কাজ শুরু হয় ২০০৭ সালে। কিন্তু কাজ সময়ে শেষ না হওয়ায় পাঁচ হাজার কোটির প্রকল্পের খরচ শেষ পর্যন্ত দশ হাজার কোটিতে পৌঁছায়। এ দিন কেন্দ্রীয় রসায়নমন্ত্রী অনন্ত কুমার বলেন, ‘‘এই কারখানা থেকে বছরে প্রায় তিন লক্ষ টন পেট্রোজাত সামগ্রী উৎপাদন হবে। এক লক্ষ বেকারের কর্মসংস্থান হবে। উৎপাদিত দ্রব্যেও অগ্রাধিকার পাবেন অসমবাসী। পাশাপাশি নামরূপে তিন বছরের মধ্যে ‘ব্রহ্মপুত্র ভ্যালি ফার্টিলাইজার’ গড়া হবে। ‘সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ প্লাস্টিক ইঞ্জিনিয়ারিং’য়ে ছাত্র সংখ্যা হাজার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার করা হবে।’’ প্রকল্প শেষ করার জন্য মোদীকে ধন্যবাদ দিলেও মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের নাম নেননি অনন্ত।

এ দিকে এই প্রকল্পকে তাদের সাফল্য হিসেবেই দেখাতে মরিয়া গগৈ। তাই বক্তৃতায় গগৈ বলেন, ‘‘সম্ভবত আমার নাম মুখে আনতে খারাপ লাগে অনন্তকুমারের। তাই এই প্রকল্প রূপায়নে আমার অবদানের কথা তিনি উল্লেখ করলেন না। সাংসদ থাকাকালীন আমিই এই প্রকল্প নিয়ে বিস্তর দরবার করেছি। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ বেনজির ভাবে এই প্রকল্পে ৫৩ শতাংশ অতিরিক্ত ভর্তুকি বরাদ্দ করেন। তার ফলেই প্রকল্প শেষ হল।’’ তিনি বন্ধ থাকা উত্তর-পূর্ব বিনিয়োগনীতি ফের চালু করা, রাজ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের কারখানা তৈরি ও স্টিলওয়েল রোড খোলার আর্জি জানান।


সহাস্য। শিবসাগরের শ্রীমন্ত শঙ্করদেব সঙ্ঘের ৮৫-তম বাৎসরিক সম্মেলনে
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে তুলে দেওয়া হল এই স্মারক। শুক্রবার অসমে। ছবি: পিটিআই।

গগৈ অসমীয়া ভাষায় বক্তব্য রাখলেও তার সুর ধরতে মোদীর সমস্যা হয়নি। তিনি প্রথমেই বলেন, ‘‘এই ঐতিহাসিক দিনে সারা ভারতে আনন্দ আর অসমে সর্বানন্দ। আসলে এই উদ্বোধনের সুযোগ আমার পাওয়ারই কথা নয়। কিন্তু কী করব। ২৫ বছর আগেই যদি কাজ শেষ হত, তবে তখনকার প্রধানমন্ত্রীই উদ্বোধন করতেন আর এত দিনে এখানকার দ্বিতীয় প্রজন্ম প্রকল্পের সুফল পেত। মনে হচ্ছে, ভগবান এতদিনের সব থমকে থাকা কাজ আমার হাতেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’’ পরে মোদী মরাণে চা শ্রমিকদের সমাবেশে অংশ নেন। উজানি অসমের মটক, মরাণ, চা শ্রমিক, আহোমরা উপজাতির মর্যাদার দাবিতে সরব। চা শ্রমিকদের রেশন বন্ধ নিয়েও বিজেপিকেই দায়ী করেছে কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে, মোদী আহোম পোষাক পরে, সর্বানন্দকে নিয়ে মঞ্চে রাখা রণ-দামামা বাজিয়ে আর অসমীয়া ভাষায় ভাষণ শুরু করে মন জয়ের চেষ্টা করেন। সভায় লক্ষাধিক মানুষের ভিড় ছিল। মোদী বলেন, ‘‘আপনাদের শ্রমের ফসল চা বিশ্বে অসমের পরিচয়, এই চা বেচে আমি শৈশবে পেট চালিয়েছি। অথচ আপনাদের এত সমস্যা। একটিবার আমাদের সুযোগ দিয়ে দেখুন, আপনাদের দিন বদল হবে।’’ এর পরেই কংগ্রেস ও গাঁধী পরিবারকে তোপ দেগে মোদী বলেন, ‘‘আমরা মজুরদের উন্নতিতে, কৃষকদের সুবিধার্থে, কর্মীদের বোনাস নিয়ে, ব্রহ্মপুত্রে নদীবন্দর গড়া এবং জলপথ বাণিজ্য নিয়ে নতুন বেশ কয়েকটি বিল এনেছি। তা লোকসভাতে পাশও হয়েছে। কিন্তু একটি পরিবারের আপত্তিতে সেগুলি রাজ্যসভায় পাশ করানো সম্ভব হচ্ছে না। রাজনৈতিক বিরোধিতা অনেকেই করে। কিন্তু নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এর আগে গরিবদের স্বার্থ বলি দেওয়ার এমন ঘটনা আগে দেখিনি।’’

এর পর, শিবসাগরের রূপহী পথারে শঙ্করসঙ্ঘের ৮৫ তম অধিবেশনে ভাষণ দেন মোদী। তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্পৃশ্যতা নিয়ে কথা বলতেও সকলে ভয় পান। কিন্তু আমাদের শঙ্করদেবের আদর্শ গোটা ভারতে ছড়িয়ে দিতে হবে। তিনি সেই ৫০০ বছর আগেই উচ্চ-নীচ সকলকে একসঙ্গে নিয়ে চলার কথা বলেছিলেন।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy