ডাক্তারি পড়ার সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার (নিট-ইউজি ২০২৬) পরীক্ষার নতুন দিন ক্ষণ ঘোষণা করল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ২১ জুন পুনরায় এই পরীক্ষা হবে। দেশ জুড়ে ২২ লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রী ওই পরীক্ষায় বসবেন। শুক্রবার তাদের এক্স হ্যান্ডলে পরীক্ষার দিন ঘোষণা করেছে এনটিএ। সেখানে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রের সম্মতি নিয়েই ২১ জুন পরীক্ষার দিন স্থির হয়েছে।
নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় দেশ জুড়ে হুলস্থুল চলছে। গত ৩ মে নিটের পরীক্ষা হয়েছিল। কিন্তু তার কয়েক দিন পরেই জানা যায়, প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গিয়েছে। তার পরই নিটের গোটা পরীক্ষাই বাতিল করে দিয়েছিল এনটিএ। শুক্রবার এক্স হ্যান্ডলে যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এনটিএ, সেখানে অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন কোনও তথ্য এবং পরীক্ষার জন্য এনটিএ-র নিজস্ব ওয়েবসাইটগুলি অনুসরণ করেন।
প্রসঙ্গত, নিটের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল বাড়তে থাকে দেশ জুড়ে। তার পরই গত ১২ মে নিটের পরীক্ষা বাতিল বলে ঘোষণা করে এনটিএ। পরীক্ষা বাতিল হতেই লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীরা অথৈ জলে পড়েন। জায়গায় জায়গায় প্রতিবাদ-বিক্ষোভে নামেন পরীক্ষার্থীরা। অভিভাবকেরাও বিক্ষোভ দেখান। পরীক্ষা বাতিলের পর এনটিএ ঘোষণা করে, ৭-১০ দিনের মধ্যে ফের পরীক্ষার দিন ঘোষণা করা হতে পারে। তার পরই নিটের দিন ঘোষণা করা হল শুক্রবার।
নিটের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ইতিমধ্যেই সিবিআই তদন্ত শুরু করেছে। পাঁচ জনকে গ্রেফতারও করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। তাঁদের মধ্যে রাজস্থান থেকে তিন জন, মহারাষ্ট্র এবং হরিয়ানা থেকে এক জন করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর জানা গিয়েছে, রাজস্থানের সীকর থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল। রাজস্থান থেকে হরিয়ানা হয়ে মহারাষ্ট্রের নাসিকে পৌঁছোয় প্রশ্ন। তার পর সেখান থেকে বেশ কয়েকটি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ৩০ লক্ষ টাকায় প্রশ্ন কেনা হয়েছিল বলে তদন্তকারী সূত্রের খবর। এই ঘটনার সঙ্গে গুরুগ্রামের এক চিকিৎসকের যোগ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। নাসিক থেকে গ্রেফতার হয়েছেন এক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। রাজস্থান পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি)-এর হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ১৩ জন। ১৪ সন্দেহভাজনকে জেরা করছে সিবিআই।
প্রশ্ন ফাঁস এবং তার জেরে পরীক্ষা বাতিলের ঘটনা নিয়ে এ বার সক্রিয় হয়েছে চিকিৎসক সংগঠনও। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের কাছে এ বিষয়ে আবেদন জানানো হয় চিকিৎসকদের সর্বভারতীয় সংগঠন ‘ফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’ (ফাইমা)-এর তরফে। শীর্ষ আদালতে ‘ফাইমা’র প্রস্তাব, নিট-ইউজি পরীক্ষা আয়োজনের দায়িত্ব ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ (এনটিএ)-র হাত থেকে সরানো হোক। তার বদলে গড়া হোক একটি বিকল্প সংস্থা। বার বার পরীক্ষা বাতিলের ফলে ২২ লক্ষ ৭০ হাজারেরও বেশি পড়ুয়ার মৌলিক অধিকার খর্ব হয়েছে বলে দাবি করে শীর্ষ আদালতে সংগঠনের আইনজীবী তন্বী দুবে বলেন, ‘‘নতুন সংস্থা আনুষ্ঠানিক ভাবে গঠিত না হওয়া পর্যন্ত পুনঃপরীক্ষা তদারকির জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মনিটরিং কমিটি গঠন করা হোক।’’