E-Paper

রাশিয়া-ভারত মৈত্রীর মজবুত বার্তা আবারও

রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় থেকেই আমেরিকার রক্তচক্ষুর সামনে পড়েছে ভারত। পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কিছু সময়ের জন্য আমেরিকা রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ভারতকে ছাড় দিয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ০৮:৩৪
(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং ভ্লাদিমির পুতিন। (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং ভ্লাদিমির পুতিন। (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা যখন যুদ্ধ চালাচ্ছে, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা গভীর করার বার্তা দিল নয়াদিল্লি এবং মস্কো। ভারত রাশিয়া নতুন দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচি শীর্ষক একটি ভিডিয়ো মাধ্যমের সম্মেলনে বক্তৃতা দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।

রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী বলেন, “আমরা অপেক্ষা করছি ২০২৬ সালে আমাদের দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে স্বাগত জানানোর জন্য। নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক গভীরতর করা আমাদের বিদেশনীতির নিঃশর্ত অগ্রাধিকার।” অন্য দিকে জয়শঙ্করের বক্তব্য, “২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ১০, ০০০ কোটি ডলার রাখা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে ভারসাম্য বজায় রেখে এবং টেকসই ভাবে।” দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে পাল্লা মস্কোর দিকে ঝুঁকে রয়েছে বলে ইঙ্গিত বিদেশমন্ত্রীর।

রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় থেকেই আমেরিকার রক্তচক্ষুর সামনে পড়েছে ভারত। পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কিছু সময়ের জন্য আমেরিকা রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ভারতকে ছাড় দিয়েছে। আজ বক্তৃতায় অশোধিত তেলের কথা সরাসরি না বললেও জ্বালানির প্রসঙ্গ তুলে জয়শঙ্কর বলেছেন, “অসামরিক পরমাণু শক্তিক্ষেত্রে রাশিয়া আমাদের প্রধান শরিক। ২০৪৭ সালের মধ্যে পরমাণু জ্বালানিতে ১০০ গিগাবাইটে পৌঁছনোর যে লক্ষ্যমাত্রা ভারত রেখেছে, মস্কো তারও গুরুত্বপূর্ণ শরিক।” তাঁর কথায়, “ভারত এবং রাশিয়ার মধ্যে কৌশলগত বিশেষ অংশীদারির ভিত পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সম্মানের উপর দাঁড়িয়ে। আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক শান্তি, সুস্থিতি এবং প্রগতির ক্ষেত্রে এই সম্পর্কের গুরুত্ব রয়েছে। আজকের পরিবর্তনশীল ভূকৌশলগত ব্যবস্থায় আমাদের সহযোগিতা গভীর হয়েছে শীর্ষ পর্যায়ের ঘন ঘন সফর বিনিময়ে।”

বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে সখ্যকে এ ভাবে প্রচারের পিছনে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে নয়াদিল্লির— এমনই মত কূটনৈতিক মহলের। ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ে ভারত যে ভারসাম্যের বার্তা দিয়েছিল, তা ইরান যুদ্ধের পরে ততটা বুক ফুলিয়ে বলার মতো থাকেনি। তবে ইজ়রায়েলের পক্ষে কথা বলেছে নয়াদিল্লি। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের হত্যার নিন্দাও করা হয়নি। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধেও শব্দ উচ্চারণ করেননি প্রধানমন্ত্রী, এই অভিযোগ তুলেছেন লোকসভার প্রধান বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সব মিলিয়ে আমেরিকার দিকে সরাসরি তর্জনী তুলতে না পারলেও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতার কথা উল্লেখ করে ভারত নিরপেক্ষ বিদেশনীতির বার্তাই দিতে চায় আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া রাজনীতিতে— এমনটাই মনেকরা হচ্ছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

India-Russia Relationship India-Russia PM Narendra Modi Vladimir Putin US-Israel vs Iran

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy