মাত্র তিন মাসের দাম্পত্য। স্বামীর সঙ্গে কোনও গন্ডগোল ছিল না। তার পরেও তাঁকে খুন করেছেন নববধূ! অভিযোগ, প্রেমিকের সঙ্গে থাকতে না পারার কষ্টে স্বামীকে শেষ করে দিয়েছেন বছর তেইশের অঞ্জলি! গত ৩০ জানুয়ারি খুনের সময় সাহায্য নিয়েছিলেন প্রেমিকেরই। রাজস্থান পুলিশের দাবি, এই খুনের কারণ দেখতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে সাত বছর।
২০১৮ সাল। তখন স্কুলে পড়াশোনা করেন অঞ্জলি। একটি বিয়েবাড়িতে তাঁর আলাপ হয় দোহারা চেহারার সঞ্জয়ের সঙ্গে। অঞ্জলির চেয়ে বছর দুয়েকের বড় ছেলেটি ভোজসভায় ওয়েটারের কাজ করছিলেন। বিয়েবাড়ি থেকে অঞ্জলি যখন বেরিয়ে যাচ্ছেন, তাঁর নম্বর চান সঞ্জয়। কিন্তু তখন অঞ্জলির নিজস্ব মোবাইল ছিল না। সঞ্জয় নিজের মোবাইল নম্বর দেন। কিন্তু এর পর আর যোগাযোগ হয়নি দু’জনের।
ছ’বছর পর, ২০২৪ সালে মোবাইল কেনেন অঞ্জলি। তখন তিনি কলেজছাত্রী। ফোন কিনেই প্রথম ডায়াল করেন বিয়েবাড়িতে দেখা হওয়া সেই তরুণের মোবাইল নম্বর। যোগাযোগ তৈরি হয়। ফোনালাপ বাড়ে। দু’জন দু’জনের প্রেমে পড়ে যান।
কিন্তু বাড়িতে কখনও প্রেমিকের কথা বা নিজের সম্পর্কের কথা বলে উঠতে পারেননি অঞ্জলি। বাড়ি থেকে পাত্র দেখা হচ্ছিল। শেষমেশ রাজস্থানের রৌলার বাসিন্দা আশিস কুমারকে পাত্র হিসাবে পছন্দ করে অঞ্জলির পরিবার। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর ধুমধাম করে আশিস-অঞ্জলির বিয়ে হয়।
আশিস উচ্চশিক্ষিত এবং স্বল্পভাষী যুবক। অঞ্জলিও শিক্ষিতা। বিকম পাশ করেছেন। শ্বশুরবাড়ির সচ্ছল অবস্থা। অন্য কোনও অশান্তিও হয়নি। কিন্তু অঞ্জলির মন পড়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার দূরে সদূলশহরে। যেখানে তাঁর বাপেরবাড়ি। যেখানে থাকেন প্রেমিক।
শ্বশুরবাড়ির সাচ্ছন্দ্য, স্বামীর ভালবাসা— কোনও কিছুর মধ্যে ভাল ছিলেন না অঞ্জলি। তিনি প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে যান।
শেষমেশ তাঁরা ঠিক করেন এ ভাবে চলতে পারে না। অতএব, আশিসকে সরিয়ে দিতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, স্বামীকে খুনের ১৬ দিন আগে বাপের বাড়ি যান অঞ্জলি। তখনই সঞ্জয়ের সঙ্গে দেখা করে খুনের ছক ফেঁদে পেলেন তিনি। বিয়ের পর অঞ্জলি তার আগে সঞ্জয়ের সঙ্গে দেখা করেননি। যত টুকু কথা হত, তা হোয়াট্সঅ্যাপ এবং ফোনকলেই সীমাবদ্ধ ছিল। গত ৩০ জানুয়ারি মোট সাত বার হোয়াট্সঅ্যাপ কলে কথা হয় অঞ্জলি ও সঞ্জয়ের।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্বামীর কাছে অঞ্জলি আবদার করেন, দু’জনে বাড়ি থেকে খানিক দূরে একটি হাঁটতে যাবেন। হাঁটতে হাঁটতে কিছু কথা বলবেন। রাজি হন আশিস। তার মধ্যে সুযোগ বুঝে প্রেমিককে ফোন করেন অঞ্জলি।
রোহিত এবং বাদল নামে দুই বন্ধুকে নিয়ে সঞ্জয় আশিস-অঞ্জলির সামনে উপস্থিত হন। পুলিশের দাবি, অঞ্জলি ‘সিগন্যাল’ দেওয়ার পরেই আক্রমণ হয় আশিসের উপরে। প্রথমে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। তার পর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় যুবককে।
প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুনের পর ছিনতাইয়ের গল্প ফেঁদেছিলেন অঞ্জলি। পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তাঁর কানের দুল এবং আশিসের মোবাইলর জন্য ছিনতাইকারীরা হামলা চালান। তারাই খুন করে ফেলেছে স্বামীকে। কিন্তু টানা জিজ্ঞাসাবাদে সত্যি জানান অঞ্জলি।
অঞ্জলি, সঞ্জয়-সহ মোট চার জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আপাতত তাঁদের ঠিকানা বিকানের কারাগার।