কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার সাংসদ গৌরব গগৈ এবং তাঁর স্ত্রী এলিজাবেথ কলবার্নের বিরুদ্ধে আবার এক বার ‘পাকিস্তান যোগের’ অভিযোগ তুললেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনে তিনি কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। যদিও সব অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিচ্ছেন অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈর পুত্র।
রবিবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে গৌরব এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলেছেন হিমন্ত। শুরুতে গৌরবের নাম নেননি অসমের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘অসমের এক ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁর পাকিস্তানের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। দেশকে এটা জানানো আমার কর্তব্য। আমি যখন সিঙ্গাপুরে ছিলাম, তখন একটি ছবি আবিষ্কার করি। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, অসমের এক সাংসদ যুবকদের নিয়ে পাকিস্তানি দূতাবাসে গিয়েছেন।’’
তার পরেই সরাসরি গৌরবকে আক্রমণ শানান হিমন্ত। তাঁর কথায়, ‘‘আজ পর্যন্ত কংগ্রেসের এক জন নেতাও গগৈয়ের মতো পাকিস্তানি দূতাবাসে প্রতিনিধিদল নিয়ে যাননি। বিষয়টি নজরে আসতেই আমি তদন্তের নির্দেশ দিই।’’ তার পরেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী টেনে আনেন এলিজাবেথের প্রসঙ্গ। তাঁর কথায়, ‘‘২০১১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানে গৌরবের স্ত্রীর কর্মরত থাকার বিষয়টিও আমরা খুঁজে পেয়েছি।’’
এখানেই থামেননি হিমন্ত। তরুণ মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন গৌরবের পাকিস্তান ভ্রমণের বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগপ্রকাশ করেন তিনি। এই সফরকে ‘অত্যন্ত সংবেদনশীল’ বলে উল্লেখ করেছেন হিমন্ত। তাঁর অভিযোগ, এই ভ্রমণ সম্পর্কে অসম পুলিশ, অসমের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চ বা কেন্দ্রকে অবহিত করা হয়নি। নিরাপত্তা প্রোটোকল উপেক্ষা করেই পাকিস্তানে গিয়েছিলেন গৌরব।
শুধু গৌরব নন, তাঁর স্ত্রীর পাকিস্তান যাওয়া এবং সেখানে কাজ করার বিষয়টিও সিটের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে বলে জানান অসমের মুখ্যমন্ত্রী। সিটের রিপোর্ট অনুযায়ী, চাকরি পাওয়ার আগেও আলি তৌকির শেখের সঙ্গে একাধিক বার পাকিস্তানে গিয়েছিলেন এলিজাবেথ। তিনি কখনও বিমানে পাকিস্তান যাননি। অটারী সীমান্ত দিয়ে সেখানে গিয়েছেন। ভারতের গোপন গোয়েন্দা তথ্য পাকিস্তানে হস্তান্তর করার অভিযোগও তোলা হয়েছে এলিজাবেথের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন:
অসম সরকার জানিয়েছে, সিটের রিপোর্টের পর মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই বিষয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে ওই রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। হিমন্ত জানিয়েছেন, তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তার যে কোনও তদন্তকারী সংস্থাকে দায়িত্ব দিতে পারে।
রবিবার হিমন্তের এই সাংবাদিক সম্মেলনকে ‘শতাব্দী সবচেয়ে ব্যর্থ’ বলে উল্লেখ করেন গৌরব। তাঁর কথায়, ‘‘দিল্লি এবং অসমের সাংবাদিকদের জন্য আমার দুঃখ হচ্ছে। তাঁরা শতাব্দীর সবচেয়ে ব্যর্থ এক সাংবাদিক সম্মেলনে গিয়েছিলেন। একটি নিম্নমানের সিনেমার (সি-গ্রেড সিনেমা) থেকেও খারাপ। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া প্রায় তথ্যই ভুয়ো এবং ভিত্তিহীন।’’