নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গী জয়রাজ রাজা রাওয়ের সঙ্গে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার কুয়ালা লামপুরে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মোদী। নেতাজির আজাদ হিন্দ ফৌজের অন্যতম সদস্য ছিলেন জয়রাজ। স্বাধীনতা সংগ্রামে বীরত্ব ও আত্মত্যাগের জন্য তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানান মোদী।
দু’দিনের সফরে শনিবার মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার ছিল তাঁর সফরের দ্বিতীয় দিন। মালয়েশিয়া সফরের শেষ পর্বে আজাদ হিন্দ বাহিনীর অন্যতম সদস্য জয়রাজের সঙ্গে দেখা করেন মোদী। স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা শোনেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সমাজমাধ্যমে মোদী লেখেন, “আইএনএ (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি বা আজাদ হিন্দ বাহিনী)-র প্রবীণ সদস্য জয়রাজ রাজা রাওয়ের সঙ্গে দেখা করাটা আমার কাছে এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। তিনি অত্যন্ত সাহসী এবং জীবনে অনেক আত্মত্যাগ করেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা শুনে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি।”
জয়রাজের সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি পোস্ট করে মোদী আরও লেখেন, “নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং আইএনএ-র সকল বীরের কাছে আমরা চিরকাল ঋণী থাকব। তাঁদের বীরত্বই ভারতের ভাগ্য নির্ধারণে সাহায্য করেছিল।” বস্তুত, ১৯৪৩ সালের সেপ্টেম্বরে কুয়ালা লামপুরের সেলাঙ্গর পাডাং (স্বাধীনতা স্কোয়ার) থেকে হাজার হাজার অনুগামীর উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন নেতাজি। তাঁর ওই ভাষণ বহু তরুণ-তরুণীকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
আরও পড়ুন:
দু’দিনের সফর শেষ করে ইতিমধ্যে মালয়েশিয়া থেকে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মোদী। এই দু’দিনের সফরে প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর এবং বাণিজ্য ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও মজবুত করার দিকে জোর দিয়েছেন মোদী। মালয়েশিয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন তিনি। মোদীর কথায়, ‘‘সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আমাদের বার্তা খুব স্পষ্ট। কোনও দ্বিচারিতা নয়। কোনও আপস নয়।’’ পাশাপাশি মালয়েশিয়ার সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের ঠিকানা হিসাবে পৃথিবীতে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ মালয়েশিয়া। সভ্যতা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ আমাদের এক করে রেখেছে।’’