আমেরিকার নতুন শুল্কের কী প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয় অর্থনীতিতে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। এমনটাই জানাচ্ছে দিল্লি। আমেরিকার পরিবর্তিত শুল্ক হারের প্রভাব নিয়ে মন্তব্য করার সময় এখনও আসেনি। সোমবার এ কথা জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। বাণিজ্য মন্ত্রক বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখছে বলেও জানান তিনি।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে শুল্ক নিয়ে আগেই ধাক্কা খেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকার জাতীয় অর্থনৈতিক জরুরি আইন (ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট) ব্যবহার করে এই আইন প্রয়োগ করে ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের উপর শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, অসাংবিধানিক ভাবে ওই শুল্ক চাপানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পরে সেই শুল্ক স্থগিত রাখারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই পৃথক ভাবে শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। বিভিন্ন দেশের উপরে প্রথমে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্দেশে স্বাক্ষর করেন। পরে তা বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশ করার কথাও ঘোষণা করেন। তবে এই শুল্ক ‘সাময়িক’। কারণ, ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারা উল্লেখ করে নতুন এই শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। আইন বলছে, এতেও মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনই শেষ কথা। প্রাথমিক ভাবে অনুমোদন ছাড়া ১৫০ দিনের বেশি এই ধরনের শুল্ক কার্যকর করা যায় না।
আমেরিকার এই নতুন শুল্কের কী প্রভাব পড়তে পারে ভারতের অর্থনীতিতে, তা নিয়ে সোমবার জানতে চাওয়া হয় নির্মলাকে। তবে এ বিষয়ে এখনই কিছু মন্তব্য করতে চাইছেন না তিনি। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর কথায়, এখনই মন্তব্য করাটা একটু তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে। ভারতীয় অর্থনীতিতে এবং বাণিজ্য ক্ষেত্রে এর প্রভাব পর্যালোচনা করছে বাণিজ্য মন্ত্রক। পরবর্তী আলোচনায় কখন বসা হবে, তা নিয়েও সিদ্ধান্ত নেবে বাণিজ্য প্রতিনিধিদল। তাই আমার পক্ষে এখনই মন্তব্য করা একটু তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে।”
আরও পড়ুন:
বস্তুত, ট্রাম্প নতুন শুল্ক ঘোষণার পর পরই নয়াদিল্লি থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। ভারত ওই দিন জানায়, সার্বিক পরিস্থিতির উপর কী প্রভাব পড়তে পারে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চার বাক্যে এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বাণিজ্য মন্ত্রক জানায়, “শুল্ক নিয়ে গতকাল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে, তা আমাদের নজরে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এ বিষয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেছেন। আমেরিকার প্রশাসন কিছু পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে। আমরা এই সকল বিষয়ের প্রভাব খতিয়ে দেখছি।”
কেন্দ্রের ওই বিবৃতির কথাই সোমবার ফের এক বার তুলে ধরেন নির্মলা। জানান, বিষয়টি বিশ্লেষণ করে দেখছে বাণিজ্য মন্ত্রক। একই সঙ্গে ব্যাঙ্কগুলিকেও সতর্ক করে দেন তিনি। কারও প্রয়োজন না-থাকলেও তাদের ভুল বুঝিয়ে বিমা বিক্রি বন্ধ করার জন্য বলেন নির্মলা। তাঁর কথায়, ব্যাঙ্কগুলিকে নিজেদের মূল কাজে বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার।