Advertisement
E-Paper

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশকে সরাতে ফের উদ্যোগী বিরোধীরা, নতুন করে ইমপিচমেন্ট নোটিসের প্রস্তুতি

জ্ঞানেশকে সরাতে আগেও উদ্যোগী হয়েছিল বিরোধীরা। তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তুলে সংসদের দুই কক্ষে লিখিত প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন বিরোধী সাংসদেরা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৩১
Opposition plans to move fresh impeachment notice against Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। — ফাইল চিত্র।

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তাঁর পদ থেকে সরাতে আবার প্রস্তুতি শুরু করল বিরোধীরা। সূত্রের খবর, জ্ঞানেশকে সরানোর প্রস্তাব সংক্রান্ত ইমপিচমেন্ট নোটিস তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বিরোধী শিবিরে। তৃণমূলের সর্বোচ্চ সূত্রে খবর, শনিবার বিরোধীদের এক বৈঠকে এই সংক্রান্ত আলোচনাও হয়।

জ্ঞানেশকে সরাতে আগেও উদ্যোগী হয়েছিল বিরোধীরা। তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তুলে সংসদের দুই কক্ষে লিখিত প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন বিরোধী সাংসদেরা। তবে সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণ। আবার নতুন করে বিরোধীরা জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট নোটিস পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করেছে।

লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে কেন্দ্রের উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পর শুক্রবারই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয় লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর। সূত্রের খবর, দুই নেতা ফোনে কথা বলার সময় জ্ঞানেশকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ ব্যাপারে পাঁচ বিরোধী দলের পাঁচ সাংসদ নোটিসের খসড়া তৈরির কাজও শুরু করেছেন বলে সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই।

Advertisement

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একটি সাংবিধানিক পদ। সাংবিধানিক পদে কেউ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে গেলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। লোকসভা এবং রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ৪১ (মৌসম বেনজির নূর ইস্তফা দেওয়ার পরে)। গত বার জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার ব্যাপারে প্রথমে উদ্যোগী হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূলই। সেই উদ্যোগে সমর্থন করেছিল কংগ্রেস, ডিএমকে, এসপি-সহ বিরোধী দলগুলি। সেই সময় জ্ঞানেশকে অপসারণের প্রস্তাব সংক্রান্ত নোটিসে ১৯৩ জন বিরোধী সাংসদ (লোকসভার ১৩০, রাজ্যসভার ৬০) সই করেছিলেন। তৃণমূল সূত্রে দাবি, শুক্রবারের পর থেকে দেশের বিরোধী-ঐক্যের নতুন ছবি প্রকাশ্যে এসেছে।

শুক্রবার সংসদের সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে কেন্দ্রের ব্যর্থতার নেপথ্য কারণ ভোটাভুটিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাংসদের সমর্থন না-পাওয়া। বিল পাশ করাতে গেলে প্রয়োজন ছিল সংসদে উপস্থিত সাংসদদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট। কিন্তু হিসাব অনুযায়ী, বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ২৯৮ জন সাংসদ। বিপক্ষে ভোট পড়েছিল ২৩০টি। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোটাভুটিতে যোগ দিয়েছিলেন। ফলে কেন্দ্রের উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

অনেকের মতে, এই বিল পাশ করাতে না-পারা কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের কাছে ‘ধাক্কা’। ভবিষ্যতে কোনও বিল পাশ করাতে গেলে, শুক্রবারের অঙ্কের কথা মাথায় রাখতে হবে কেন্দ্রকে। অন্য দিকে, সংসদে ভোটাভুটির পর নতুন করে অক্সিজেন পেয়েছে বিরোধী শিবির। তাদের ‘জোট’ মজবুত, তা দেশের সামনে তুলে ধরতে পেরেছে তারা, এমনই মনে করছেন রাজনৈতিক কারবারিদের একাংশ। তাঁদের মতে, সেই স্রোতকে কাজে লাগিয়ে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার সলতে পাকানো শুরু হয়েছে বিরোধী শিবিরে।

Gyanesh Kumar TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy