বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের ড্রোন পাকিস্তানে ঢুকেছিল। কিন্তু ইচ্ছা করেই সেগুলিকে আটকানো হয়নি। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়িয়ে এমনটাই দাবি করলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। কেন ভারতের ড্রোন আটকানো হয়নি, তার যুক্তিও দিয়েছেন তিনি। দাবি করেছেন, ভারতের ড্রোনগুলির ‘অন্য উদ্দেশ্য’ ছিল। তা ভেস্তে দিতেই ড্রোন আটকানো হয়নি।
শুক্রবার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে নিজের বক্তব্য জানান পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের ভিতরে বিভিন্ন জায়গা শনাক্ত করার জন্য ড্রোন পাঠিয়েছিল ভারত। তাঁরা এই উদ্দেশ্য সফল হতে দিতে চাননি। সেই কারণেই ভারতের ড্রোনগুলিকে প্রথমে আটকানো হয়নি। পরে নিরাপদ দূরত্বে ড্রোনগুলি পৌঁছোনোর পর সেগুলিকে গুলি করে নামানো হয়েছে। আসিফের কথায়, ভারতের পাঠানো ড্রোনের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের মধ্যে বিভিন্ন জায়গা শনাক্ত করা। তাই আমরা সেগুলিকে আটকাইনি, যাতে আমাদের অবস্থান ফাঁস না-হয়ে যায়। পরে নিরাপদ দূরত্বে যাওয়ার পর ড্রোনগুলিকে আমরা গুলি করে নামিয়েছি।"
আরও পড়ুন:
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, এই সংক্রান্ত পরিস্থিতির অগ্রগতি আইনসভায় জানানো হচ্ছে এবং আগামী দিনেও হবে। তিনি বলেন, ‘‘ভারতের আগ্রাসনের জবাব দিতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সবসময় প্রস্তুত, এটা নিয়ে যেন কারও মনে কোনও সন্দেহ না থাকে। আমরা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করছি, বর্তমান পরিস্থিতির জবাব দিতে আমরা ২০০ শতাংশ প্রস্তুত।’’
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তান ভারতের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা চালানোর চেষ্টা করে। ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োগ করেছিল ইসলামাবাদ। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেই হামলার চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এ বার পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করলেন, ভারতের ড্রোনও বৃহস্পতিবার সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে গিয়েছিল। প্রথমে না-আটকালেও পরে সেগুলি গুলি করে নামানো হয়েছে।
গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। তাতে ২৬ জনের মৃত্যু হয়। পাকিস্তান প্রথম থেকেই এই ঘটনার সঙ্গে যোগাযোগ অস্বীকার করেছিল। কিন্তু ভারত এই ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ করে। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তানে হামলা চালায় ভারত। সেখানকার একাধিক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’। তার পর ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- সংঘর্ষবিরতিতে রাজি ভারত এবং পাকিস্তান। গত ১০ মে প্রথম এই বিষয় জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে দুই দেশের সরকারের তরফেও সংঘর্ষবিরতির কথা জানানো হয়।
- সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার পরেও ১০ মে রাতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গোলাবর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পাল্টা জবাব দেয় ভারতও। ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। তবে ১১ মে সকাল থেকে ভারত-পাক সীমান্তবর্তী এলাকার ছবি পাল্টেছে।
-
ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বিষয়, তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ চায় না নয়াদিল্লি, জানিয়েছে আমেরিকা: পাক বিদেশমন্ত্রী
-
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুরন্ত লড়াই, অগ্নিবীরদের ভাগ্য খুলে যেতে পারে, ৪ বছরের মেয়াদ বাড়বে? কী পরিবর্তন হতে পারে? চর্চা
-
ভারতের হামলায় কি গুঁড়িয়ে গিয়েছে আমেরিকায় তৈরি পাক যুদ্ধবিমান এফ-১৬? এক বাক্যে জবাব মার্কিন বিদেশ দফতরের
-
৩ মাস ধরে পালানোর চেষ্টা, শেষে চিনা যন্ত্র চালু করতেই গোয়েন্দাদের জালে পহেলগাঁওয়ের জঙ্গিরা
-
গোপন সুড়ঙ্গের মুখ কৌশলে বন্ধ করে ‘ফাঁদ’ পাতে সেনা? কেন তিন মাসেও কাশ্মীর ছাড়তে পারেনি পহেলগাঁওয়ের জঙ্গিরা