E-Paper

জঙ্গি নন মজুরির দাবিতে আন্দোলনকারীরা: কোর্ট

আদিত্য আনন্দের ভাই কেশব আনন্দ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে অভিযোগ করেন, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের উপরে হেফাজতে নির্যাতন চালাচ্ছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ০৯:২৮

—প্রতীকী চিত্র।

ন্যূনতম মজুরির মতো মৌলিক অধিকারের দাবি নিয়ে আন্দোলন করলেই কাউকে জঙ্গি বলা যায় না। আর বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী হলেই তাঁকে অপরাধী বলা যায় না। দীর্ঘ দিন ধরে বকেয়া বেতনবৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রে মানবিক সময়সীমা দাবি করে গত মাসে উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভে যোগ দেওয়া দুই সমাজকর্মীকে আগামী সোমবার দুপুর ২টোয় আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিতে গিয়ে এমনই মত জানাল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চ। দুই বিচারপতির বেঞ্চ উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, ওই শ্রমিক আন্দোলনে গ্রেফতার হওয়া আদিত্য আনন্দ এবং রূপেশ রায়কে সোমবার, ১৮ মে দুপুর ২টোয় আদালতে হাজির করতে হবে।

আদিত্য আনন্দের ভাই কেশব আনন্দ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে অভিযোগ করেন, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের উপরে হেফাজতে নির্যাতন চালাচ্ছে পুলিশ। শুনানির সময়ে বিচারপতিরা জানান, অভিযুক্তেরা শুধু মাত্র মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ‘জঙ্গি’র মতো ব্যবহার করার কোনও কারণ নেই। বিচারপতি নাগরত্ন উত্তরপ্রদেশ সরকারের আইনজীবীকে বলেন, ‘‘ওঁরা জঙ্গি নন! ওঁরা শুধু ন্যূনতম মজুরির মতো মৌলিক অধিকারের দাবি জানাচ্ছিলেন।’’ একই সঙ্গে বেঞ্চ বলে, ‘‘কেউ বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাস করলেই তাঁকে অপরাধী বলা যায় না।’’ বেঞ্চ জানায়, দুই অভিযুক্তকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতেই রাখতে হবে।

আবেদনে জানানো হয়েছে, গ্রেফতার হওয়া আদিত্য আনন্দ পেশায় সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং সমাজকর্মী। অন্য দিকে রূপেশ রায় অটোচালক। নয়ডায় শ্রমিক আন্দোলনে দু’জনেই অংশ নিয়েছিলেন। আদিত্যর আবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১৭ এপ্রিল তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লী স্টেশন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তবে গ্রেফতারির কারণ জানানো হয়নি এবং গ্রেফতারি সংক্রান্ত কোনও নথিও দেওয়া হয়নি। এমনকি পরিবার বা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তাঁকে উত্তরপ্রদেশে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। আদিত্যের ভাইয়ের অভিযোগ, নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভে হিংসা উস্কে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতারের পর উত্তরপ্রদেশ পুলিশের হেফাজতে আদিত্যকে নির্যাতনকরা হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া অটোচালক রূপেশ রায়ের ক্ষেত্রেও হেফাজতে গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আবেদনে বলা হয়েছে, রূপেশকে ‘ফাঁসানোর জন্য’ পুলিশ ভুয়ো তথ্য ও সাজানো উদ্ধার দেখিয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনে বক্তব্য রাখার পর তাঁকে বোটানিক্যাল গার্ডেন মেট্রো স্টেশন থেকে নয়ডা পুলিশ তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Protest Left Supreme Court

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy