দিল্লির এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি অফিসার বুধবার সকালে ওষুধ কিনতে গিয়েছিলেন। আশা ছিল, এ বার ওষুধের দাম কম লাগবে। কারণ সংবাদপত্রে পড়েছিলেন, তাঁকে নিয়মিত যে ওষুধ খেতে হয়, তাতে জিএসটি কমেছে। কিন্তু ওষুধের দোকান থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এখনই কম দামে ওষুধ মিলবে না, কারণ দোকানে যে ওষুধ রয়েছে, তা আগেই এসেছে। তাতে পুরনো দাম লেখা রয়েছে। নতুন ওষুধ এলে তবেই কম দামে ওষুধ মিলবে।
শুধু দিল্লি নয়, গোটা দেশ থেকেই এমন অভিযোগ আসছে। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের বক্তব্য, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন জিএসটি-র হার চালু হয়েছে। অনেক ওষুধে জিএসটি ১২ শতাংশ থেকে কমে ৫ শতাংশ হয়েছে। ৩৬টি জীবনদায়ী ওষুধে জিএসটি ১২ শতাংশ থেকে কমে শূন্য হয়েছে। সেই অনুযায়ী ওষুধের দামও কমবে। তার জন্য কি ওষুধের ফাইলের গায়ে নতুন দাম ছাপা থাকা উচিত?
কেন্দ্রের বক্তব্য, একেবারেই নয়। ২২ সেপ্টেম্বরের আগে যে সব ওষুধ দোকানে চলে এসেছে, তাতে নতুন দাম বা এমআরপি ছাপার দরকার নেই। ওষুধের দাম ঠিক করার ভারপ্রাপ্ত সংস্থা ‘ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি’ গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দু’বার সরকারি নির্দেশিকা জারি করে স্পষ্ট করেছে, ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা, বিপণন সংস্থাগুলি ওষুধের দাম বা এমআরপি সংশোধন করে তা ডিলার ও দোকানদারদের জানিয়ে দেবে। সংশোধিত দামের তালিকা দোকানে রাখতে হবে। ওষুধের দাম সেই অনুযায়ীই নেওয়া হবে। যদি দোকানে সংশোধিত দামেই ওষুধ বিক্রি হয়, তা হলে নতুন দাম ছাপানোর জন্য পুরনো ওষুধের স্টক ফেরত নেওয়ারদরকার নেই।
সরকারি সূত্রের বক্তব্য, বয়স্ক মানুষদের অনেক ক্ষেত্রেই বেশি দামে ওষুধ বেচা হচ্ছে বলে অভিযোগ মিলেছে। ওষুধ বা অন্য যে কোনও ক্ষেত্রেই জিএসটি-র হার বদল অনুযায়ী দাম কমানো না হলে জাতীয় গ্রাহক হেল্পলাইন ১৯১৫-এ ফোন করে বা ৮৮০০০১৯১৫-এ ওয়টস্যাপ করে অভিযোগ জানানো যাবে। আপাতত নজরদারি চলছে। কেন্দ্রীয় পরোক্ষ কর পর্ষদের কর্মীরা বাজারে ঘুরে নজর রাখছেন। প্রথমেই কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। সেপ্টেম্বরের শেষে প্রথম রিপোর্ট মিলবে। তার পরে প্রয়োজন মাফিক পদক্ষেপ করা হবে।
ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা জিএসটি কমা সত্ত্বেও ওষুধের দাম না কমালে তার বিরুদ্ধে মুনাফাখোরির অভিযোগ উঠবে। এই মুনাফাখোরি রুখতে জিএসটি চালুর পরে মুনাফাখোরি প্রতিরোধ সংস্থা বা অ্যান্টি-প্রফিটিয়ারিং অথরিটি চালু হয়েছিল। গত এপ্রিল থেকে তা তুলে দেওয়া হয়। এখন জিএসটি-র হারে বিপুল সংশোধনের ফলে ফের মুনাফাখোরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আজ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দিল্লিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে জিএসটি আপিল ট্রাইব্যুনাল চালু করেছেন। মূলত জিএসটি আদায় নিয়ে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ী সংস্থাগুলির বিবাদ হলে ট্রাইব্যুনালের কাছে সেই মামলা আসবে। একই সঙ্গে জিএসটি আপিল ট্রাইব্যুনালের প্রিন্সিপাল বেঞ্চ মুনাফাখোরি প্রতিরোধ সংস্থা হিসেবেও কাজ করবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, করদাতাদের জীবনযাত্রা সহজ করতে ট্রাইব্যুনাল ন্যায়ের মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)