কলকাতা মেট্রোর স্বাস্থ্য এবং পরিকাঠামো নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল সাংসদ মালা রায়। রেল মন্ত্রকের কাছে তাঁর প্রশ্ন ছিল, কলকাতা মেট্রোর সুড়ঙ্গের স্তম্ভগুলি, প্ল্যাটফর্মের ছাদ এবং রেললাইনের স্বাস্থ্য কেমন, সময়ে সময়ে এগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় কি না, তা নিয়ে সবিস্তারে তথ্য জানানো হোক।
সাংসদ মালার সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে রেল মন্ত্রক। তাদের তরফে সংসদে জানানো হয়েছে, কলকাতা মেট্রো-সহ গোটা ভারতীয় রেল ব্যবস্থায় যথাযথ নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য এবং পরিকাঠামো নিয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে। রেললাইন, রেলসুড়ঙ্গ, রেলসেতু-সহ রেল এবং রেলের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত সব কিছুতেই পর্যাপ্ত পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ১৯৭২ সাল থেকে ২০১৪— এই ৪২ সালে কলকাতায় কত কিলোমিটার মেট্রো পথ হয়েছে, পাশাপাশি ২০১৪ থেকে ২০১২৫ সাল— এই ১১ বছরে মেট্রোর কতটা পথ সম্প্রসারিত হয়েছে, সেই খতিয়ান দিয়ে একটা তুলনা টানতে চেয়েছে তারা।
রেল মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২-২০১৪ সাল পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার মেট্রোপথ চালু করা হয়েছিল। সেখানে ২০১৪-২০২৫ সালের মধ্যে ৪৫ কিলোমিটার মেট্রোপথ চালু করা হয়েছে। ঘটনাচক্রে, ২০১৪ সালে দেশে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। এই সময়ের মধ্যে কলকাতায় কোন কোন পথে মেট্রো চালু করা হয়েছে, তারও খতিয়ান দিয়েছে রেল মন্ত্রক। শুধু তা-ই নয়, এখনও কোন পথে মেট্রো চালু বাকি সেটাও জানানো হয়েছে। রেল মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও চারটি মেট্রো করিডরের কাজ চলছে। ৫২ কিলোমিটারের মধ্যে ২০ কিলোমিটারের কাজ জমিজটের কারণে আটকে রয়েছে। আরও দাবি করা হয়েছে, রাজ্য সরকারের নানা কারণে অনেক জায়গাতেই সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে মেট্রো প্রকল্পকে।
রেল মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, জয় হিন্দ এয়ারপোর্ট থেকে মাইকেল নগরের মেট্রোর কাজ চলছে। কিন্তু নিউ ব্যারাকপুর থেকে বারাসত— সাড়ে ৭ কিমির এই রুটে জমিজটে কাজ থমকে। এ ছাড়াও জোকা-মাঝেরহাট (৭.৭৪ কিমি) এবং মাঝেরহাট-এসপ্ল্যানেড (৬.২৬ কিমি) পথে মেট্রো প্রকল্প শুরু হয়েছে। কিন্তু কিছু কারণে সেই কাজও থমেক। এই পথে কোথায় কোথায় কিসের জন্য থমকে সেটাও উল্লেখ করেছে রেল মন্ত্রক। খিদিরপুরে থমকে মেট্রোর কাজ। ডঃ বিসি রায় মার্কেট, চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ের কাছেও থমকে রয়েছে কাজ।