Advertisement
E-Paper

চিনা নিয়ন্ত্রণে থাকা বন্দরের কাছে এ বার বিমানবন্দরও ইজারা দেবে শ্রীলঙ্কা! কোনও ভারতীয় সংস্থা দৌড়ে নামবে?

২০১৭ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা সমুদ্রবন্দরটি রয়েছে চিনা নিয়ন্ত্রণে। এ বার হাম্বানটোটা বিমানবন্দরও ৩০ বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ১৮:৪০

— প্রতীকী চিত্র।

শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা সমুদ্রবন্দর রয়েছে চিনা নিয়ন্ত্রণে। এ বার হাম্বানটোটার বিমানবন্দরও ইজারা (লিজ়) দেবে শ্রীলঙ্কা। কয়েক বছর আগে কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল ভারতের কাছে। প্রায় চূড়ান্ত হয়ে এলেও শ্রীলঙ্কায় সরকার বদলে যাওয়ায় সেই চুক্তি দিনের আলো দেখেনি। এ বার ফের ওই বিমানবন্দরকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। এ বারের দৌড়ে কোনও ভারতীয় সংস্থা নামছে কি না, তা নিয়ে ফের কৌতূহল বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।

হাম্বানটোটা বিমানবন্দরকে ৩০ বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বিমানবন্দরটির নিয়ন্ত্রণভার কোনও বিনিয়োগকারীর হাতে তুলে দিতে চাইছে শ্রীলঙ্কার সরকার। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও দরজা খোলা রেখেছে কলোম্বো। শ্রীলঙ্কার এবং শ্রীলঙ্কার বাইরের আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের ৯ জুনের মধ্যে প্রস্তাব জানাতে বলা হয়েছে। ঘটনা পরম্পরা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল সূত্রকে উদ্ধৃত করে পিটিআই জানাচ্ছে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান আরও মজবুত করার জন্য এটি ভারতীয় সংস্থাগুলির কাছে একটি দারুণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। তাই শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বিমানবন্দর ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়ে, তার উপর নজর রাখছে ভারতও।

২০১৭ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা সমুদ্রবন্দরটি রয়েছে চিনা নিয়ন্ত্রণে। ৯৯ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে সমুদ্রবন্দরটি। অনেকেই মনে করেন, এর ফলে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিন ‘প্রভাব’ বিস্তার করার সুযোগ পাচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে চিনের ‘ইউয়ান ওয়াং-৫’ এবং ‘ডং ফাং হং–৩’-কে ভারত মহাসাগরে দেখা গিয়েছে। শ্রীলঙ্কার হাম্বনটোটা বন্দরে গিয়ে রসদ এবং জ্বালানিও সংগ্রহ করেছে ওই দুই জাহাজ। এই জাহাজগুলির উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি এগুলি চিনের গুপ্তচর জাহাজ বলেও দাবি করেন অনেকে। হাম্বানটোটা বন্দরে এই জাহাজগুলির যাতায়াত নিয়ে এক সময় কলম্বোর কাছে আপত্তি জানিয়েছিল নয়াদিল্লিও।

এই বন্দরের অদূরেই রয়েছে হাম্বানটোটা বিমানবন্দর। এ বার সেটিরও নিয়ন্ত্রণভার কোনও বিনিয়োগকারীর হাতে তুলে দিতে চাইছে শ্রীলঙ্কার সরকার। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও দরজা খোলা রেখেছে কলোম্বো। শ্রীলঙ্কার পূর্বতন সরকারের আমলে ভারত-রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে ‘শৌর্য অ্যারোনটিক্স প্রাইভেট লিমিটেড’ এই বিমানবন্দরটির নিয়ন্ত্রণ পাওয়া প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছিল। ৩০ বছরের মেয়াদে ইজারা চূড়ান্ত হতে হতেও হয়নি। এ বার ফের ওই বিমানবন্দর ইজারা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা। এ বারে কোনও ভারতীয় সংস্থা সেই দৌড়ে নামছে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল দানা বেঁধেছে অনেকের মনে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে এই বিমানবন্দরটি তৈরি করেছিল শ্রীলঙ্কা। এর জন্য মোট ২০ কোটি ৯০ লক্ষ ডলার খরচ হয়েছিল। যার সিংহভাগই দিয়েছিল চিনের ‘এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাঙ্ক’। তবে বিমানবন্দরটি বাণিজ্যিক ভাবে লাভজনক হয়নি। গত এক দশক ধরে বিমানবন্দরটি প্রায় অব্যবহৃত অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে।

China Hambantota Airport Hambantota Port Sri Lanka
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy