ভারতে অনুপ্রবেশ করে বেশ কয়েকটি হামলা চালানোর কথা ছিল লশকর-এ-ত্যায়বা জঙ্গির। স্লিপার সেল তৈরির দায়িত্ব ছিল। কিন্তু কাশ্মীরে প্রবেশ করেই দীর্ঘ দিনের এক সাধপূরণের সুযোগ এসে যায়। তাই হামলা চালানোর আগে তাই করে ফেলে মহম্মদ উসমান জাট ওরফে চাইনিজ়। সে টাকে চুল প্রতিস্থাপন করায়। তার পরে যদিও স্লিপার সেল তৈরির লক্ষ্য পূরণ আর হয়নি জাটের। তার আগেই ধরা পড়ে যায়।
এনআইএ (জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা) লশকরের একটি চক্রের হদিস পেয়েছে। সেই সূত্রেই তারা জাটকে গ্রেফতার করে। ধৃত জাট জানিয়েছে, কী ভাবে উত্তর কাশ্মীর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল সে। তার পরে কোথায় কোথায় ছিল, তা-ও জানায়। তদন্তকারীদের জাট জানিয়েছে, পাকিস্তানে যা তাদের বলা হত, শ্রীনগরে এসে তার কোনও মিল পায়নি সে। সেখানে এসে দেখে, সেখানকার বাসিন্দাদের জীবনযাপন একেবারেই আলাদা। এর পরেই জাট সিদ্ধান্ত নেয়, সেখানে চুলের প্রতিস্থাপন করাবে।
জেরায় জাট জানিয়েছে, সে আদতে লাহৌরের বাসিন্দা। লশকর তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। তার পরে একাধিক হামলার জন্য ভারতে পাঠিয়েছিল। গত মাসে তাকে গ্রেফতার করে শ্রীনগর পুলিশ। তার সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় লশকরের আর এক জঙ্গি আবু হুরেইরা ওরফে আবদুল্লাকে। জম্মু ও কাশ্মীরের বাইরে জঙ্গিদের স্লিপার শাখা তৈরির দায়িত্ব পড়েছিল জাট এবং আবদুল্লার উপরে।
আরও পড়ুন:
এনআইএ-র জেরায় ধৃত জাট জানিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে তার মাথার চুল পড়ছিল। তাতে তার আত্মবিশ্বাস ধাক্কা খেয়। সে ভাবত, পশ্চিমের দেশগুলি ছাড়া কোথাও চুলের প্রতিস্থাপন সম্ভব নয়। আর তা করা গেলেও, খরচ অনেক। শ্রীনগরে গিয়ে সে জানতে পারে, চুলের প্রতিস্থাপন সম্ভব। কী ভাবে? এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রীনগরে পাক জঙ্গি জ়ারঘাম এবং আবদুল্লার সঙ্গে পরিচয় হয় তার। জ়ারঘাম একটি দোকানে নিয়ে যেত তাকে। সেই দোকানের মালিক চুল প্রতিস্থাপন করেছিলেন বলে জানান জাটকে। তাঁর কথা শুনে জাট তাকে অনুরোধ করে তার জন্যও ব্যবস্থা করে দিতে। জাটকে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান ওই দোকানের মালিক। সেখানে চুল প্রতিস্থাপন করায় ওই লশকর জঙ্গি।
জাট এর পরে জম্মুতে যায়। তার পরে সেখান থেকে বাসে চেপে পঞ্জাবে যায়। এনআইএ-র গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, জাট ভুয়ো পাসপোর্ট জোগাড় করে ভিন্দেশে পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। যেমনটা ২০২৪ সালে করেছিল খরগোশ ওরফে উমর। ২০১২ সালে ভারতে অনুপ্রবেশ করে ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরি করিয়ে ২০২৪ সালে ইন্দোনেশিয়া চলে গিয়েছিল সে। সেখান থেকে পশ্চিম এশিয়ার দেশে পালিয়ে যায়। যদিও জাট সফল হয়নি। গতমাসে ধরা পড়ে যায় সে।