লম্বা চুলের শখ থাকতেই পারে। কিংবা আগে না থাকলেও নতুন করে তেমন শখ চেপে বসতে পারে। কিন্তু গরমে যেখানে ঘাম জমে চুল উঠে যাচ্ছে, সেখানে চুলের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করতে চাইলে কী করবেন? চুল উঠতে না দেওয়া, মাথার ত্বকের যত্ন নেওয়া এবং একই সঙ্গে চুলের ক্ষতি যাতে না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কাজটা সহজ নয়। তবে কয়েকটা সহজ নিয়ম মানতে পারলেই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলতে পারে।
মাথার ত্বক ও চুল পরিষ্কার রাখা
১। একদিন পর পর বা প্রতিদিন সালফেট-মুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুতে হবে, যাতে মাথার ত্বকে ঘাম বা ময়লা জমতে না পারে। কারণ, অতিরিক্ত ঘামের সঙ্গে ধুলোবালি মিশে চুলের গোড়ায় এক ধরনের আঠালো স্তর তৈরি হয়। এর ফলে ফলিকল বন্ধ হয়ে যায়, যা চুল বাড়তে তো দেয়ই না, তার সঙ্গে খুশকির উপদ্রব বৃদ্ধি করে।
২। গরম জল চুলের গোড়া আরও নরম করে দেয়। তাই চুল ধোয়ার জন্য সবসময় ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার জল বা হালকা ঠান্ডা জল ব্যবহার করুন।
কন্ডিশনিং
১। শ্যাম্পু করার পর চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী গোড়া বাদ দিয়ে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এটি চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ডগা ফাটতে দেয় না।
২। পারলে সপ্তাহে অন্তত একবার ঘরোয়া মাস্ক যেমন: টকদই ও মধুর প্যাক বা ভালো ব্র্যান্ডের হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন।
চুল বাঁধার স্টাইল ও সুরক্ষা
১। আঁটসাঁট করে চুল বাঁধবেন না: ঘাম ও আর্দ্রতার কারণে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। এর ফলে চুল সামান্য টান লাগলেই বা চিরুনি করার সময় বেশি পরিমাণে ঝরে পড়তে পারে। তাই গরমে চুল শক্ত করে বাঁধবেন ঢিলেঢালা খোঁপা বা বিনুনি করতে পারেন।
২। এ ছাড়া কড়া রোদে বের হওয়ার সময় ছাতা ব্যবহার করুন অথবা স্কার্ফ দিয়ে চুল ঢেকে রাখুন। এতে রোদ ও ধুলোবালি দুটো থেকেই চুল বাঁচবে।
৩। ঘেমে থাকা বা স্নানের পর ভেজা চুল কখনোই বেঁধে রাখবেন না। এতে চুলে গন্ধ হতে পারে এবং ছত্রাক জন্মাতে পারে।
ট্রিম করা এবং হিট স্টাইলিং
১। চুল বড় করতে চাইলে অনেকেই কাটতে চান না। কিন্তু ৩-৪ মাস পর পর চুলের ঠিক নিচের অংশ ট্রিম করা উচিত। এতে ফেটে যাওয়া আগা বাদ পড়ে এবং চুল দ্রুত বাড়ে।
২। গরমে এমনিতেই বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে, তার ওপর হেয়ার ড্রায়ার বা স্ট্রেইটনারের মতো হিট স্টাইলিং টুল ব্যবহার করলে চুল নষ্ট হয়ে যাবে। চুল হাওয়ায় শুকাতে দিন।
খাওয়াদাওয়া এবং জল
ভেতর থেকে চুলকে হাইড্রেটেড রাখতে দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান করুন। চুল মূলত 'কেরাটিন' নামক প্রোটিন দিয়ে তৈরি। তাই খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, বাদাম, সবুজ শাকসবজি এবং টক ফল রাখুন।