গরম পড়লেই রোদের তাপে শুরু হয় মুখে জ্বালা। তার উপর ঘামে-ময়লায় চটচটে হয়ে যায়, মুখ, হাত-পা। ঘামে ভিজে থাকে মাথার ত্বকও। ফলে জীবাণুর সংক্রমণ বাড়ে। তা ছাড়া, চড়া রোদে কিছু ক্ষণ থাকলেই কালচে হয়ে যায় মুখও। ফলত, গরমে জেল্লা হারায় মুখ। কারও ত্বক হয়ে যায় রুক্ষ, কারও আবার মুখ তৈলাক্ত দেখায়। সমস্যা যেমনই হোক, তার সঠিক সমাধান খোঁজা জরুরি। দৈনন্দিন রূপচর্চার কৌশলে ছোট্ট বদল আনলেই ফল মিলতে পারে হাতেনাতে।
স্ত্রাবের বদলে কী?
ক্রিমের মতো, সঙ্গে থাকে ছোট দানা, এমন স্ক্রাবই ব্যবহার হয় ত্বক থেকে মৃত কোষ ঝরিয়ে ফেলার জন্য। সপ্তাহে ২ দিন অন্তত স্ক্রাব করতে বলা হয়। কিন্তু শুধু স্ক্রাব নয়, ত্বকের মৃত কোষ ঝরিয়ে ঔজ্জ্বল্য আনতে গত কয়েক বছরে রূপচর্চার পন্থায় খানিক বদল এসেছে। এখন ব্যবহার হচ্ছে এএইচএ (গ্লাইকোলিক বা ল্যাকটিক অ্যাসিড), বিএইচএ (স্যালিসাইলিক অ্যাসিড)। সিরামের মধ্যে স্বল্প মাত্রায় মেশানো থাকে অ্যাসিড। ফলে ত্বকের জেল্লা ফেরাতে এক দিন অন্তর দুই ধরনের সিরাম মাখতে হবে (যে দিন গ্লাইকোলিক অ্যাসিড মাখবেন, পরের দিন স্যালিসাইলিক বা ভিটামিন সি)। একে বলা হচ্ছে ‘স্কিন সাইক্লিং’।
অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট
রোদের তাপ, ধুলো, ধোঁয়া, দূষণে ত্বকের ক্ষতি হয়। শরীরে বিপাক ক্রিয়ার ফলে ‘ফ্রি র্যাডিক্যাল’ তৈরি হয়, যা কোষ এবং ত্বকের ক্ষতি করে। সেই ক্ষতির হাত থেকে ত্বককে না বাঁচাতে পারলে মুখ জেল্লা হারাবেই। খাবারের মাধ্যমে যেমন শরীর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট (আমলকি, টাটকা সব্জি, ফল) পেতে পারে, তেমনই রূপচর্চার মাধ্যমেও পেতে পারে। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ ফল দিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়। ভিটামিন সি সিরামে বলিরেখা কমতে পারে, ত্বক টানটান হওয়াও সম্ভব।
আরও পড়ুন:
ত্বকের প্রয়োজন রক্ষীর
ধুলো, ধোঁয়া, দূষণ থেকে ত্বককে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজন কিন্তু দ্বাররক্ষীরও! সেই কাজটি করে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, সেরামাইড, নায়াসিনামাইডের মতো উপাদান। ত্বক নিষ্প্রাণ দেখানোর কারণই হল, ত্বকের আর্দ্রতা কমে যাওয়া। ত্বকে যেমন আর্দ্রতার জোগান দিতে হয়, তেমনই তা যাতে ত্বকের মধ্যে আবদ্ধ থাকে, তা-ও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই কাজটি করতে পারে এই ধরনের উপাদানযুক্ত ক্রিম বা সিরাম।
ঘুম
ত্বকের যত্ন নেওয়ার তাগিদ থাকলেও, অনেকেই ঘুমের গুরুত্ব বোঝেন না। শুধু শরীর সুস্থ রাখার জন্য নয়, উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত ত্বক পেতে পর্যাপ্ত ঘুমের কোনও বিকল্প নেই। ঘুমোনোর সময় ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত হয়। ঘুম ঠিক হলে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে, যা প্রাণবন্ত ত্বকের জন্য জরুরি।
সানস্ক্রিন
সানস্ক্রিন কখনও মাখলেন, কখনও নয়— এমনটা কিন্তু করা যায় না। ত্বকের রোগের চিকিৎসকেরা বলেন, প্রতি দিন দাঁত মাজা যতটা জরুরি, সানস্ক্রিন মাখাও তাই। না হলে সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি ত্বকের যে ক্ষতি করবে, তা আটকানো সম্ভব নয়। ত্বকের ক্ষতি না রুখতে পারলে মুখ জেল্লা হারাবেই।