বিয়ের তারিখ ঠিক হওয়ার পরের দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি পর্ব। কত যে কাজ থাকে! মাসের পর মাস চলে যায়, তবু সব যেন হয়ে ওঠে না। আর এ সবের মধ্যেই কনেরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি ভুলে যান। তা হল নিজের যত্ন নেওয়া। নিজের বিয়ের দিনে সুন্দর দেখাবে, তা কে না চায়! কিন্তু তার জন্য তো এক দিন সাজলেই হবে না। সে প্রস্তুতিও নিতে হবে আগে থেকেই। বয়সের ছাপ মুছে যাবে, দাগছোপহীন জেল্লাদার ও মসৃণ ত্বক পেতে রোজ ফেশিয়াল করানোর দরকার নেই। বরং ত্বকের কিছু থেরাপি করিয়ে নিতে পারেন। যাঁদের ত্বকে দাগছোপ বেশি অথবা কমবয়স থেকেই ব্রণের সমস্যা, বলিরেখাও পড়েছে, তাঁদের জন্য কম সময়ে হতে পারে এমন কিছু থেরাপির হদিশ রইল।
হাইফু থেরাপি
ছুরি-কাঁচি ছাড়াই ত্বকের এক রকম সার্জারি বলা চলে। আল্ট্রাসাউন্ড ব্যবহার করে ত্বকের সূক্ষ্ম দাগছোপ তুলে ফেলা হয়। কুঁচকে যাওয়া চামড়া, বলিরেখাও দূর হয়ে ত্বক টানটান থাকে। হাইফু ত্বকের কোলাজেনের উৎপাদন বাড়িয়ে বার্ধক্যের ছাপ পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারে। ত্বকের বাড়তি মেদও কমানো যায়, এই পদ্ধতিতে। শব্দতরঙ্গকে এমন ভাবে ব্যবহার করা হয় যা ত্বকের মৃত কোষ নষ্ট করে দেয়। বদলে কোলাজেনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের কোষের মেরামতিও করা যায় এই থেরাপিতে। ত্বকের যে জায়গায় খুঁত রয়েছে, সেই স্তরটা কাটাছেঁড়া না করে বরং মেরামত করা হয় এই পদ্ধতিতে।
আরও পড়ুন:
প্রতি সেশনের খরচ ১২ থেকে ২০ হাজার টাকা। তবে গোটা মুখ ও গলা করাতে হলে খরচ পড়বে সেশ প্রতি ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।
লেজ়ার থেরাপি
ব্রণ-ফুস্কুড়ি, মুখে দাগছোপ, ক্ষতের দাগ থেকে জন্মদাগ— যে কোনও জটিল থেকে জটিলতর সমস্যার সমাধান করতে পারে লেজ়ার। কলকাতার অনেক জায়গাতেই বেশ রমরম করে চলছে লেজ়ার ট্রিটমেন্ট। খরচও নানা রকম। স্কিন লিফটিং, অবাঞ্ছিত লোম দূর করা, জন্মদাগ দূর করা, স্ট্রেচমার্ক দূর করা, ত্বক মসৃণ করা, ট্যাটু মোছা, জরুল, মেচেতার দাগ থেকে নাছোড় আঁচিল দূর করা, কী ধরনের সমস্যা নিয়ে যাচ্ছেন, তার উপরেই নির্ভর করছে খরচ কত। আলোকরশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে এই চিকিৎসা পদ্ধতি। লেজ়ার দিয়ে মূলত ত্বকে সরাসরি তাপ দেওয়া হয়। লেজ়ারের রশ্মি ত্বকের উপরের স্তর ধ্বংস করে ফেলে। একই সঙ্গে এটি ত্বকের ভিতরের স্তরটিকে উত্তপ্ত করে তোলে। এতে রোম তো ওঠেই, পাশাপাশই দাগছোপও উঠ যায়।
কেবল ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য করালে সেশন প্রতি খরচ পড়বে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। লেজ়ার দিয়ে নানা রকম ট্রিটমেন্ট করতে হলে খরচ ২০ হাজারের উপর থেকে শুরু হবে।
হাইড্রাফেশিয়াল
বিয়ের আগে অনেকেই এই থেরাপি করান এখন। এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। রোদে ঘুরে যাঁদের মুখে কালচে দাগছোপ পড়েছে, অথবা যাঁদের মুখে-কপালে বেশি ব্রণ-ফুস্কুড়ির ধাত রয়েছে, তাঁরা হাইড্রাফেশিয়ালের দিকেই ঝুঁকছেন। সাধারণ ফেশিয়ালের হাতের তালুতে চাপ দিয়ে মুখে ধীরে ধীরে মালিশ করা হয়। কিন্তু হাইড্রা ফশিয়ালে সবটাই হয় যন্ত্রের সাহায্যে। পদ্ধতি অনেকটা ‘ভ্যাকিউম ক্লিনার’-এর মতো। ত্বকের গভীর থেকে ধুলো-ময়লা টেনে বার করে আনা। এ ক্ষেত্রেও ক্লিনজ়িং ও এক্সফোলিয়েশন করা হয় আগে। তার পর ফেশিয়ালটি হয় কয়েকটি ধাপে। হাইড্রা ফেশিয়াল করাতে হলে তার কিছুদিন আগে থেকেই মুখে বারে বারে সাবান লাগানো বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া বন্ধ করতে হবে। রাতে কেবল হালকা ময়শ্চারাইজ়ার লাগাতে পারেন। লেজ়ার করালে হাইড্রাফেশিয়াল করানো যাবে না।
হাইড্রাফেশিয়ালের খরচ ৩ হাজার থেকে ১২ হাজারের মধ্যে। কোন সালোঁয় করাচ্ছেন, তার উপর খরচ নির্ভর করবে।