আদালতে হাজিরা দেওয়ার আগে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য তিন জন বিচারাধীন বন্দিকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন চার জন পুলিশকর্মী। হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফেরার সময় পালানোর চেষ্টা করেন এক বন্দি। ই-রিকশায় বন্দির হাতে দড়ি বেঁধে তাঁর পাশে বসেছিলেন সিনিয়র কনস্টেবল। পালানোর জন্য রিকশা থেকে লাফিয়ে পড়েন বন্দি। তাঁকে ধরার জন্য দৌড়ে নামেন পুলিশকর্মীও। বিপদ দেখে রিকশা নিয়ে পালিয়ে যান চালক। মাঝরাস্তায় কনস্টেবলের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয় বন্দির।
আরও পড়ুন:
পুলিশের দাবি, ধস্তাধস্তির সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কনস্টেবলকে আঘাত করেন বন্দি। এমনকি, কনস্টেবলের বন্দুকও ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ধস্তাধস্তিতে বন্দুক থেকে গুলি চলে যায়। গুলি লেগে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন বন্দি। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। গুরুতর আহত হন পুলিশকর্মী। পুরো ঘটনাটি রাস্তায় লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় সেই ভিডিয়োটিই ছড়িয়ে পড়েছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
আরও পড়ুন:
‘কমলজিৎ সান্ধু’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলের পাতায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। সেই ভিডিয়োয় মাঝরাস্তায় পুলিশের সঙ্গে বন্দির তুমুল ধস্তাধস্তির দৃশ্য ধরা পড়েছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শনিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ পঞ্জাবের হোশিয়ারপুরে এই ঘটনাটি ঘটেছে। সিনিয়র কনস্টেবলের নাম জসদীপ সিংহ। মৃতের নাম নসিব সিংহ। পুলিশ সূত্রে খবর, নসিব-সহ আরও তিন বন্দিকে আদালতে হাজিরার আগে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন চার জন পুলিশকর্মী।
হাসপাতাল থেকে আবার জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তাঁদের। দু’জন পুলিশকর্মী অন্য বন্দিদের নিয়ে রিকশায় এগিয়ে গিয়েছিলেন। পিছনের রিকশায় নসিবের সঙ্গে ছিলেন জসদীপ। দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল নসিবের হাত। হঠাৎই হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করেন নসিব। জসদীপের হাত ছাড়িয়ে রিকশা থেকে নামার চেষ্টা করেন তিনি। নসিবকে ধরতে রিকশা থেকে নেমে পড়েন জসদীপ। মাঝরাস্তায় দু’জনের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
আরও পড়ুন:
জসদীপকে রাস্তায় ধাক্কা মেরে ফেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করেন অভিযুক্ত। এমনকি, জসদীপের বন্দুকও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির ফলে ভুলবশত বন্দুক থেকে গুলি চলে যায়। গুলির আঘাতে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন নসিব। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। অভিযুক্তকে ওই অবস্থায় রাস্তায় ফেলে জসদীপ নিজের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের দিকে ছুটে যান। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে জসদীপকে। বর্তমানে তিনি সেই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে পঞ্জাব পুলিশ।