দু’রাজ্যের ভোটের আগে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণবিল প্রসঙ্গে যে ভাবে সরকারকে সংসদেপরাস্ত হতে হয়েছে তা মোটেই ভাল চোখে নিচ্ছেন না আরএসএস নেতৃত্ব। সূত্রের মতে, ওই বিল পাশ করানোর প্রশ্নে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের প্রয়োজনীয় পরিকল্পনার অভাব ছিল বলেই মনে করছেন আরএসএসের নেতারা। বিল আটকানোয় পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু ভোটের ঠিক আগে মুখ পোড়ে সরকারের।
কয়েক বছর ধরেই বিজেপির যাতে আলাদা মহিলা ভোটব্যাঙ্ক তৈরি হয় সে জন্য তলে তলে সক্রিয় রয়েছে আরএসএস। যা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কেন্দ্রের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির ফায়দা যাতে মহিলারা পান তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরবর্তী ধাপে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ বিল ও আসন পুনর্বিন্যাসের মতো বৃহত্তর রাজনৈতিক লক্ষ্যপূরণে সক্রিয় হয়েছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু সংসদে শেষ পর্যন্ত ওই বিল পাশে পরাস্ত হন মোদী-শাহেরা। আরএসএসের মতে, এই কাজে পূর্ব প্রস্তুতির অভাব, বিরোধীদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থতাই হারের জন্য দায়ী। সূত্রের মতে, দু’রাজ্যের ভোটারদের মধ্যেও বিজেপির বিরুদ্ধে বিল পাশ না করতে পারার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি যাতে ক্ষমতায় আসতে পারে সেই লক্ষ্যে মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা বা দিল্লির নির্বাচনের ধাঁচেই গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যে সক্রিয় রয়েছেন আরএসএস কর্মীরা। নিশ্চুপে চালানো ওই অভিযানে আরএসএসের চার-পাঁচ জনের একটি দল বাড়ি-বাড়ি ঘুরে মূলত তিনটি বিষয়ে প্রচারের উপরে জোর দিয়েছে— নারী নিগ্রহ, দুর্নীতি ও অনুপ্রবেশ। সূত্রের মতে, এঁরা কোনও দলের হয়ে প্রচার না করে কেবল লিফলেট বিলি করে মানুষকে ভোট দিতে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন। লিফলেটে গত পনেরো বছরে নারী নিগ্রহ, দুর্নীতি ও অনুপ্রবেশের ফলে কী ভাবে জনবিন্যাস পাল্টে গিয়েছে তা নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরে কৌশলে পরিবর্তনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত আরএসএসের সেই তৎপরতা আদৌ কাজ দিল কি না তার প্রথম পরীক্ষা হতে চলেছে আগামিকাল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)