Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৬ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

বরাকের উন্নয়ন চান সর্বানন্দ, উপত্যকায় বার্তা রাজ্যপালের

বরাকের উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল যথেষ্ট আগ্রহী— আজ শিলচরে এসে এই বার্তাই দিলেন রাজ্যপাল বনোয়ারিলাল পুরোহিত।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শিলচর ১৭ নভেম্বর ২০১৬ ০৩:৫৫
রাস্তা সাফাই রাজ্যপালের। বুধবার শিলচরে। — স্বপন রায়

রাস্তা সাফাই রাজ্যপালের। বুধবার শিলচরে। — স্বপন রায়

বরাকের উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল যথেষ্ট আগ্রহী— আজ শিলচরে এসে এই বার্তাই দিলেন রাজ্যপাল বনোয়ারিলাল পুরোহিত। সরকারি বিভিন্ন বিভাগের অফিসারদের বৈঠকে যেমন, তেমনই সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি জানালেন, বরাক উপত্যকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ চিন্তিত। বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে কাছাড়-করিমগঞ্জ-হাইলাকান্দির উন্নয়নের জন্য। রাস্তাঘাটের ব্যাপারে সোনোয়াল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর সঙ্গে কথা বলেছেন। ১ লক্ষ কোটি টাকা দাবি করেছেন তিনি।

তবে রাজ্যপাল নাগরিকত্ব সংশোধন বিল, এনআরসি নিয়ে মুখ খোলেননি। নাগরিকত্ব নিয়ে তাঁর জবাব, ‘‘সেটি সংসদের বিষয়। যৌথ সংসদীয় কমিটি বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছে।’’ এনআরসি প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান ‘এটি সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে চলছে’ বলে। তবে নোট বাতিলের প্রসঙ্গ উঠতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করেন। রাজ্যপাল বলেন, ‘‘দেশের মঙ্গলের জন্য এমন একটি সিদ্ধান্ত খুব জরুরি ছিল। কালোবাজারি, দুর্নীতিবাজরা এখন বড় দুশ্চিন্তায়।’’ বনোয়ারিলাল পুরোহিত অবশ্য রাজনীতির জগতেরই মানুষ ছিলেন। নাগপুরে বিধায়ক হয়েছিলেন ফরোয়ার্ড ব্লকের টিকিটে। ২ বার লোকসভায় জেতেন কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে। শেষ বার ছিলেন বিজেপি সাংসদ। পরে গঠন করেন নতুন রাজনৈতিক দল ‘বিদর্ভ রাজ্য পার্টি’। এখন অসমের রাজ্যপাল।

তিন দিনের বরাক উপত্যকা সফরে তিনি আজ শিলচরে আসেন। সভা করেন বিভাগীয় কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে। পরে গাঁধীবাগে গিয়ে মহাত্মা গাঁধীর প্রতিমূর্তিতে মাল্যদান করেন। রেল প্রতিমন্ত্রী রাজেন গোঁহাই কিছু দিন আগে বরাকের ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তুললেও রাজ্যপাল পুরোহিত আজ শহিদ স্মৃতিসৌধে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তাঁর সফরের স্মারক হিসেবে গাঁধীবাগে তিনটি গাছের চারা রোপন করা হয়। রাজ্যপাল পুরোহিত, পুরপ্রধান নীহারেন্দ্র নারায়ণ ঠাকুর ও জেলাশাসক এস বিশ্বনাথন চারাগাছ তিনটি লাগান। পরে অংশ নেন স্বচ্ছ ভারত অভিযানে।

Advertisement

জেলা প্রশাসন গাঁধীবাগের সামনের অংশকে সে জন্য বাছাই করেছিল। রাজ্যপাল আসছেন বলে আগেই অবশ্য ওই জায়গা বিশেষ ভাবে সাফ-সুতরো হয়। বনোয়ারিলাল পুরোহিত তা দেখে বলেন, ‘‘এই জায়গায় সাফাইয়ের কী প্রয়োজন।’’ তিনি এগিয়ে যান আবর্জনার সন্ধানে। রাস্তায় একটি বিস্কুটের মোড়ক পড়েছিল। ঝাড়ু দিয়ে সেটি সাফাই করেন। কিছুটা এগিয়ে দেখেন চায়ের দোকানের সামনে ব্যবহৃত কাপের ঢাই। আরও নানা কিছু পড়ে আছে রাস্তার ওপর। হাত লাগালেন। তুললেন সব। পরে ওই দোকানদারকে সচেতনতার সংক্ষিপ্ত পাঠ দেন তিনি।

গাঁধীভবনে তাঁর সম্মানে এক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। তাতে তিনি অংশ নেননি। করিমগঞ্জের সভার দেরি হয়ে যাবে বলে সভায় যাননি। তাই রাস্তাতেই রাজ্যপালকে পুষ্পস্তবকে সম্মানিত করেন পুরসভার সভাপতি নীহারেন্দ্র নারায়ণ ঠাকুর ও উপসভাপতি চামেলি পাল। উপহার হিসেবে তুলে দিতে চাইলেন মুগার কাপড় ও শাল চাদর। রাজ্যপাল বলেন, ‘‘এ সব আমার বাড়িতে আছে।’’ কথার মধ্যেই চাদরটি তাঁর গায়ে জড়িয়ে দেন নীহারবাবু। খুলে সোজা ফিরিয়ে দিলেন। এ বারও সেই একই কথা, ‘‘আছে, আমার ঘরে আছে।’’ চামেলিদেবী বলেন, ‘‘এগুলি তো ভালবাসার স্মারক।’’ রাজ্যপালের জবাব, ‘‘ভালবাসাটা নিলাম, স্মারকটা থাক।’’ পরে নীহারবাবু জানান, জঞ্জাল সাফাই নিয়ে নতুন পরিকল্পনা আগামী ১ ডিসেম্বর চালু হবে। ৯টি জোনে বিভক্ত করে ৪টি এজেন্সি সমস্ত জঞ্জাল সংগ্রহ করবে। তখন শহর ঝকঝকে থাকবে বলেই তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন

Advertisement