বিদ্রোহী সাংসদদের উপুড়হস্ত করে সুযোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কিন্তু তাঁর কাছ থেকে সব নিয়ে ২০ জন বিশ্বাসঘাতকতা করলেন বলে অভিযোগ প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের। তাঁর বক্তব্য, ২০০৪-এ দল ছাড়লেও সুদীপকে ফেরানো হয় ও পরে লোকসভার গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয় ২০২৫ পর্যন্ত। তাঁকে উত্তর কলকাতার সাংগঠনিক জেলা সভাপতিও রাখা হয়। এর পরেও তাঁর ‘সুবিধাবাদী পদক্ষেপে’ ক্ষুব্ধ মমতা শিবির।
সুদীপও পাল্টা ২০০৪-এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সাংসদ থাকা সত্ত্বেও সে বার তাঁকে টিকিট না দিয়ে প্রার্থী করা হয় সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে। সে বার নির্দল হয়ে লড়ে সুদীপ প্রায় ৮২ হাজার ভোট পান। সুদীপের কথায়, ‘‘প্রার্থী বদল না-করলে সে বছর উত্তর কলকাতা থেকে তৃণমূল জিততে পারত।’’ সুদীপ জানান, দলের নেতানেত্রীদের নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলেও তিনি প্রকাশ্যে কখনও মুখ খোলেননি। তাঁর বক্তব্য, “বেলেঘাটায় প্রার্থী নির্বাচন হল আমাকে না জানিয়ে। আমি চেয়েছিলাম জীবন সাহাকে প্রার্থী করা হোক। কুণাল ঘোষকে প্রার্থী করায় বাকি ৭ জন পুরপ্রতিনিধির সম্মতি ছিল না। মমতার নির্দেশে কুণাল-সহ সবাইকে ডেকে, মিলমিশ করিয়ে ছবি তুলে দলনেত্রীকে পাঠিয়েছিলাম।”
মালা রায় সম্পর্কে সৌগত জানান, তিনি এনসিপি-র ঘড়ি চিহ্নে পুরনির্বাচনে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে হারান। পরে তৃণমূল তাঁকে লোকসভার টিকিট দিয়ে সাংসদ করে। শতাব্দী রায় পরপর তিন বার টিকিট পেয়েছেন। অথচ ’২৪-এই তিনি বিজেপি-তে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। কনস্টিটিউশন ক্লাবের সাম্প্রতিক ভোটের কথা টেনে সৌগতের বক্তব্য, ‘‘ইন্ডিয়া জোট যাঁকে ঘরোয়া ভাবে সমর্থন করছিল, তাঁকে না দিয়ে শতাব্দী ভোট দেন অমিত শাহের প্রার্থীকে।’’ তাঁর শ্লেষাত্মক বক্তব্য, “অনেকেই শোনা যাচ্ছে অভিযোগ করছেন, দল তাঁদের কিছু দেয়নি। জুন মালিয়ার বিন্দুমাত্র রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছিল না, তাঁকে ’১৬ এবং ’২১-এ বিধায়কের টিকিট দেওয়ার পর ’২৪-এ সাংসদ করে আনা হয়।” সৌগতের বক্তব্য, “ভোটের ফলের ঠিক পর দিন কামারপুকুর মঠে ঘুরে মিতালি বাগ দলনেত্রীকে লেখেন, মঠের বড় মহারাজ স্বামী তিলোচনানন্দ মহারাজ বলেছেন, কামারপুকুর ও জয়রামবাটির জন্য মমতা যা করেছেন, ‘মানুষ আজীবন তাঁকে মনে রাখবে’। এই কাজ ‘ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে’ লেখা থাকবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)