Advertisement
E-Paper

হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতকে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছেন ইউনূসেরা! দাবি হাসিনার

গত মাসে হাদির মৃত্যুর পর থেকে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশের পুলিশ দাবি করে, হাদির হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত হয়ে ভারতে পালিয়েছে। যদিও সেই দাবি আগেই উড়িয়ে দিয়েছে মেঘালয় পুলিশ এবং বিএসএফ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:১৫
(বাঁ দিকে) ওসমান হাদি এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ওসমান হাদি এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

বাংলাদেশের তরুণ নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যে ভাবে ভারতকে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমনটাই মনে করছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে দেশের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা আড়াল করতেই এই চেষ্টা করা হচ্ছে। ‘এনডিটিভি’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী।

হাসিনার কথায়, “হাদি হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয় ঘটনা। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে যে অরাজকতা এবং নির্বাচনী হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে, এটি তারই ফল।” সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, “হাদির হত্যার সঙ্গে ভারতকে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতাকে বিদেশি ষড়যন্ত্র হিসাবে দেখানোর জন্য এ সব করা হচ্ছে।” ভারতকে বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছের বন্ধু বলেই মনে করেন তিনি। পড়শি দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, “বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছের বন্ধুর সঙ্গে শত্রুতা করে নিজেদের (অস্তিত্ব) টিকিয়ে রাখতে চাইছে কিছু মৌলবাদী শক্তি। তারাই এ সব করছে।”

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং সেই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকারও সমালোচনা করেন হাসিনা। আওয়ামী লীগ নেত্রীর কথায়, “(বাংলাদেশের) বিদেশনীতির ক্ষেত্রে ইউনূস সরকারের এই হঠকারী পদক্ষেপ শুধুমাত্র দূরদর্শিতার অভাবই নয়, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনকও।”

গত মাসে হাদির মৃত্যুর পর থেকে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশের পুলিশ দাবি করে, হাদির হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত হয়ে ভারতে পালিয়েছে। যদিও সেই দাবি আগেই উড়িয়ে দিয়েছে মেঘালয় পুলিশ এবং বিএসএফ। পরবর্তী সময়ে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসে। ওই ভিডিয়োয় এক যুবক নিজেকে হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল বলে দাবি করেন। এ-ও জানান, তিনি দুবাইয়ে আছেন। হাদি হত্যা মামলার চার্জশিটে পরে বাংলাদেশের পুলিশ জানায়, ওই ভিডিয়োটি আসল বলেই মনে করছে তারা।

হাদির মৃত্যুর পর থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাণ্ডব, ভাঙচুর চলেছে। ঢাকায় সংবাদমাধ্যমের দফতরে হামলা হয়েছে। অগ্নিসংযোগ হয়েছে। হামলা হয়েছে ছায়ানট, উদীচীর মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতেও। উদ্ভূত পরিস্থিতি সংখ্যালঘুদের উপরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলার এই অবনতি নিয়েও মন্তব্য করেছেন হাসিনা। তাঁর কথায়, “হিংসা থামাতে দৃঢ় পদক্ষেপের বদলে হাদির মৃত্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে বাংলাদেশের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলি। তারা এ সবের মাধ্যমে নিজেদের কট্টরপন্থী মতাদর্শ প্রচার করতে, উত্তেজনায় উস্কানি দিতে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপরে আঘাত হানতে চাইছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য এ সব করা হচ্ছে।”

Sheikh Hasina Muhammad Yunus Bangladesh Situation
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy