ফের যাতে ডাক্তারির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা তথা নিট-এর প্রশ্ন ফাঁস না হয় তা নিশ্চিত করতে আজ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং ফেসবুক-টেলিগ্রামের মতো সমাজমাধ্যম সংস্থাগুলির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরে কেন এই উদ্যোগ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তেমনই আগামী ২১ জুন প্রবল গরমের মধ্যে কেন দ্বিতীয় পর্বে (২টো-সওয়া ৫টা) পরীক্ষা ফেলা হল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। ওই অনুষ্ঠান থেকে যাতে নজর না সরে যায়, তার জন্যই পড়ুয়াদের দুপুর রোদে পরীক্ষা দিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত।
নিটের তদন্তে এ বার নাগপুরেও ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পৌঁছে যাওয়ার সূত্র পেয়েছে সিবিআই। সূত্রের মতে, পুণে থেকে ধৃত লাতুরের বাসিন্দা রসায়নের শিক্ষক পি ভি কুলকার্নি নাগপুরের তিন পড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পড়ুয়া-পিছু পনেরো লক্ষ টাকায় প্রশ্নপত্র বিক্রি করা হয়। কার মাধ্যমে ওই যোগাযোগ হয়েছিল, ওই পড়ুয়ারা কী ভাবে টাকা পাঠিয়েছিলেন, তা এখন খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
২১ জুন নিটের প্রশ্ন আর যাতে ফাঁস না হয়, তা নিয়ে কথা বলতে আজ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে চোখ-কান খোলা রাখার পরামর্শ দেন তিনি। আজ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, গুগ্ল, মেটা, টেলিগ্রামের মতো সমাজমাধ্যম সংস্থার প্রতিনিধিরাও। যে ভাবে সমাজমাধ্যমে নিট-কে কেন্দ্র করে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বিশেষ করে টেলিগ্রামে এমন কিছু চ্যানেল সক্রিয় রয়েছে, যারা হয় পরীক্ষার ঠিক মুখে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করে কিংবা নকল প্রশ্নপত্র দিয়ে থাকে। ধর্মেন্দ্রর মতে, মূলত পড়ুয়া ও পড়ুয়াদের পরিবারকে বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত করতেই এ সব করা হয়ে থাকে।
গোয়েন্দাদের মতে, সীমিত সংখ্যক ফোন নম্বরের সাহায্যে একাধিক সন্দেহজনক চ্যানেল পরিচালনা করা হচ্ছে। এটি একটি সংগঠিত কার্যকলাপের ইঙ্গিত। এ ধরনের ভুয়ো তথ্য ছড়ানো চ্যানেলগুলির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। যে সব চ্যানেল পরীক্ষার আগে ভুয়ো তথ্য ছড়ায়, অপপ্রচার চালায়, আতঙ্ক ছড়ায়, সেগুলিকে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
নিটের সময় নিয়েও নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে। গত ১২ মে ওই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। জানানো হয়, বাতিল হওয়া নিটের পরীক্ষা হবে আগামী ২১ জুন। ওই দিন বেলা দু’টো থেকে বিকাল পাঁচটা পনেরো পর্যন্ত ওই পরীক্ষা হবে। প্রশ্ন উঠেছে, রবিবার হওয়া সত্ত্বেও কেন সকালেপরীক্ষা হবে না! কেন পরীক্ষার্থীদের চড়া রোদ্দুরের মধ্যে এসে পরীক্ষা দিতে হবে।
সূত্রের মতে, ওই দিন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। সকাল থেকে নানা অনুষ্ঠানে যোগের কসরত দেখাবেন প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যরা। নিটের কারণে তা যাতে কোনও ভাবে পিছনের সারিতে চলে না যায়, তার জন্য পরীক্ষার্থীদের ভর দুপুরে পরীক্ষা দিতে আসতে বলা হয়েছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, প্রচার বেশি দরকারি না ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত? দেশ জানতে চায় কোনটা অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত! যদিও শাসক শিবিরের যুক্তি, এই নিয়ে রাজনীতি অর্থহীন। ৩ মে-র পরীক্ষাও বেলা দু’টোয় শুরু হয়েছিল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)