শিক্ষিত, অভিজ্ঞ প্রবীণ নাগরিকেরাও কী ভাবে ‘ডিজিটাল গ্রেফতার’-এর ফাঁদে পড়ে যাচ্ছেন! শুক্রবার তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশব্যাপী যে ভাবে ‘ডিজিটাল গ্রেফতার’-এর মাধ্যমে প্রতারণা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ।
‘ডিজিটাল গ্রেফতার’ সংক্রান্ত একটি মামলার শুক্রবার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে। শিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ প্রবীণ নাগরিকেরাও যে ভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, তা দেখে বিস্মিত আদালত। দুই বিচারপতির বেঞ্চের মন্তব্য, “বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ অনেক কিছু শেখে, অভিজ্ঞতা অর্জন করে, সাধারণত তো এটাই হয়। কিন্তু লোকে যে আচরণ করছে, তাতে আমরা বিস্মিত। যখন এই ধরনের ফোন আসে, তখন আপনারা কোনও বিচার-বিবেচনা না করেই তাদের (প্রতারকদের) কথা মেনে নিচ্ছেন।”
বৃহস্পতিবারই মুম্বইয়ে ফের এক প্রবীণ নাগরিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে খবর প্রকাশ্যে আসে। ৭৫ বছর বয়সি ওই বৃদ্ধ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী। এনআইএ এবং মহারাষ্ট্র পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখার আধিকারিক পরিচয়ে তাঁর কাছ থেকে সাড় ১৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকেরা। এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে শিক্ষিত, অভিজ্ঞ প্রবীণ নাগরিকেরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার যে মামলাটির শুনানি ছিল, সে ক্ষেত্রেও প্রতারিত ব্যক্তি এক প্রবীণ নাগরিক। ৭৮ বছর বয়সি এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ককর্মী। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁকে প্রতারণা করে ২৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই মামলার শুনানির সময়েই এই মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। বস্তুত, ‘ডিজিটাল গ্রেফতার’ সংক্রান্ত ঘটনায় ইতিমধ্যে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপও করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ডিজিটাল গ্রেফতার’ সংক্রান্ত সব অভিযোগের তদন্তভার আগেই সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি কান্তের বেঞ্চ।
‘ডিজিটাল গ্রেফতার’-এর ফাঁদে গত এক বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু মানুষ প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন। দেশবাসীকে বোঝানো হয়েছে, অনলাইনে এ ভাবে কাউকে গ্রেফতারের বিধান নেই দেশে। তার পরেও প্রতারকদের ফাঁদে পা দেওয়া বন্ধ হয়নি।