জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন নিজেদের পূর্ববর্তী রায়ের সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট! সোমবার শীর্ষ আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, ইউএপিএ (বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন)-তেও জামিন পাওয়াটাই নিয়ম। ২০২১ সালের একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায়ের উল্লেখ করেই সোমবার বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুয়ানের বেঞ্চ বলেছে, উমরদের ক্ষেত্রে যথাযথ ভাবে ওই নিয়ম পালন করা হয়নি।
চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি দিল্লি গোষ্ঠীহিংসার ঘটনায় ইউএপিএ মামলায় অভিযুক্ত উমর এবং শারজিলের জামিন আবেদন খারিজ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। অন্য দিকে, একই মামলায় অভিযুক্ত বাকি পাঁচজন— গুলফিশা ফাতিমা, মীরন হায়দার, শিফা-উর-রেহমান, মহম্মদ শাকিল খান এবং শাদাব আহমেদকে জামিন দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। ১৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়াক বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছিল, পুনর্বিবেচনার আবেদনপত্র এবং সংযুক্ত নথিগুলি পর্যালোচনা করার পর ২০২৬ সালের ৫ই জানুয়ারি তারিখের রায়টি পুনর্বিবেচনা করার মতো উপযুক্ত ভিত্তি ও কারণ বেঞ্চ খুঁজে পায়নি। ফলে পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
কিন্তু সোমবার বিচারপতি নাগারত্ন এবং বিচারপতি ভুয়ানের বেঞ্চ পূর্ববর্তী সেই নির্দেশের সমালোচনা করেছে। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে শীর্ষ আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় দিয়েছিল ইউএপিএ-র আওতায় গ্রেফতারিতে বিচার প্রক্রিয়ায় প্রচুর দেরি হলে অভিযুক্তের জামিন হওয়া উচিত। কিন্তু এনআইএ-র তদন্তাধীন একটি মাদক-সন্ত্রাসের মামলায় জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দা সৈয়দ ইফতিখার আন্দ্রাবিকে জামিন মঞ্জুর করতে গিয়ে বিচারপতি নাগারত্ন ও বিচারপতি ভুয়ানের বেঞ্চ জানায়, ২০২১-এর সেই রায় মানা হয়নি উমরদের পুনর্বিবেচনার আবেদনের ক্ষেত্রে।
দিল্লি হিংসা মামলায় ২০২০ সাল থেকে জেল খাটছেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর এবং শারজিল। জানুয়ারিতে শীর্ষ আদালতে তাঁদের জামিনের আবদেন খারিজ হওয়ার পরে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেছিলেন, ‘‘দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে জামিন সকলের অধিকার। কারণ, আমাদের আইন নির্দোষ অনুমানের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। বিচারে দোষ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্তই নির্দোষ। যদি কেউ পাঁচ-সাত বছর বিচারাধীন বন্দি হিসাবে জেল খাটে আর তার পর নির্দোষ বলে প্রমাণিত হয়, তবে সেই হারানো সময়ের ক্ষতি তো পূরণ করা যাবে না।’