Advertisement
E-Paper

‘হোমমেকার নয়, দেশের নির্মাতা বলা উচিত’! গৃহিণীরা মাসে ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিদার, পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

সেই মামলার শুনানিতেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোলের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, যাঁরা সংসার সামলান, তাঁরা যে দায়িত্ব পালন করেন, তার অর্থনৈতিক মূল্য অপরিসীম। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়তে, প্রতিপালন করতে সাহায্য করেন তাঁরা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ১৭:৩৪
গৃহিণীদের নিয়ে পর্যবেক্ষণের কথা জানাল সুপ্রিম কোর্ট।

গৃহিণীদের নিয়ে পর্যবেক্ষণের কথা জানাল সুপ্রিম কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

যে মহিলারা সংসার চালান, তাঁদের ‘হোমমেকার’ বলে খাটো করা হয়। একটি মামলায় এমনটাই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। শীর্ষ আদালত জানাল, তারা শুধু ঘরের কাজ করেন না, একটা পরিবারকে ধরে রাখেন, পরবর্তী প্রজন্মকে গড়ে তুলে দেশ গঠনেও সাহায্য করেন।

২০০১ সালের নভেম্বরে পঞ্জাবে দুর্ঘটনার মৃত্যু হয়েছিল এক বধূর। তাঁর মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মোটর অ্যাকসিডেন্ট ক্লেম ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হয়েছিল পরিবার। সেখানে নিহতের পরিবারকে ২.৪২ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে পঞ্জাব এবং হরিয়ানা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল পরিবার। হাই কোর্ট নিহতের পরিবারকে ৮.৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এর পরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় পরিবার। সুপ্রিম কোর্ট সেই ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধি করে নির্দেশ দেয়, বিমা সংস্থাকে ৬২.৭৮ লক্ষ টাকা দিতে হবে মহিলার পরিবারকে।

সেই মামলার শুনানিতেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোলের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, যাঁরা সংসার সামলান, তাঁরা যে দায়িত্ব পালন করেন, তার অর্থনৈতিক মূল্য অপরিসীম। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়তে, প্রতিপালন করতে সাহায্য করেন তাঁরা। পরিবারের ভিত্তিকে মজবুত করেন। মানুষের অগ্রগতিতে সাহায্য করেন। বিচারপতির কথায়, ‘‘হোমমেকার না বলে তাঁকে দেশের নির্মাতা বলা উচিত।’’

বৈবাহিক সম্পর্কে মহিলাদের কী ভূমিকা, তা নিয়েও পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি করোলের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘‘বিয়ে মানে পরিচারিকা নিয়োগ নয়।’’ তাঁদের মতে, সংসারের দায়িত্ব স্বামী এবং স্ত্রী উভয়েরই। এক জন মহিলা বিবাহিত বলেই তাঁর ইচ্ছা, পেশাগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা খর্ব করা যায় না। সন্তানের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার পরেও কোনও মহিলা যদি নিজের পেশায় সফল হতে চান, তা হলে তা তাঁর স্বামী, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের প্রতি ‘নির্মমতা’ বলে ধরে নেওয়া যায় না।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, মহিলা এমন অনেক আত্মত্যাগ করেন, যা তেমন ভাবে লক্ষ্যই করা হয় না। যে মহিলা সময়, ক্ষমতা নিজের সংসারের জন্য ব্যয় করেন, তিনি কিন্তু সেই সংসারের উপার্জনেও বিনিয়োগ করেন। তাই তাঁদের কাজের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক মূল্যও দেওয়া উচিত। বেঞ্চের আরও পর্যবেক্ষণ, দীর্ঘ দিন ধরে কোনও টাকা না নিয়েই শ্রম দেন, সেবা করেন মহিলারা। তার পরিপ্রেক্ষিতে পারিবারিক সম্পত্তিতেও তাঁদের অধিকার রয়েছে। বিচারপতি করোলের পর্যবেক্ষণ, ‘‘যাঁরা সংসার করেন, তাঁরা ঘরের যে কাজ করেন, সেবাপ্রদান করেন, তার অর্থনৈতিক মূল্য অস্বীকার করা যায় না।’’

তার পরেই মোটর দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার বিষয়ে গাইডলাইন প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিশেষত, দুর্ঘটনায় বধূর মৃত্যু হলে পরিবারকে কতটা আর্থিক সাহায্য করা হবে, সেই নিয়েও বিধি প্রকাশ হয়েছে। বিচারপতি করোলের পর্যবেক্ষণ, ‘‘একটি দেশ এবং মানবসমাজের অগ্রগতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বধূর। হোমমেকাররা দেশ গঠন করেন। দেশের নির্মাণকারী হিসাবে এক জন বধূর ভূমিকা বিবেচনা করে আমরা দেখেছি, পরিবারের লোকজনকে সেবাদান, সংসারের কাজকর্মের ন্যূনতম মাসিক মূল্য ৩০ হাজার টাকা।’’ সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায়, সারা দেশে লক্ষ লক্ষ বধূ সংসারের জন্য যে কাজ করেন, তা সে ভাবে লক্ষ্যই করা হয় না। তার মূল্যও দেওয়া হয় না। তাই তাঁকে শুধু ‘হোমমেকার’ বলা উচিত নয়। দেশের ‘নির্মাতা’ বলা দরকার।

সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট দেশের সব হাই কোর্টকে দুর্ঘটনার মামলায় নিহতদের পরিবারকে দ্রুত আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দিয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy