Advertisement
E-Paper

‘শুধু সিবিআই কেন?’ কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে পারবে রাজ্য পুলিশও, জানাল সুপ্রিম কোর্ট

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ফৌজদারি বিচারের ক্ষেত্রে কেন্দ্র-রাজ্য যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়। কোনও প্রশাসনিক ফাঁকফোকর দিয়ে যাতে দুর্নীতি গলে যেতে না-পারে, তা নিশ্চিত হবে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৬
Supreme Court says, State police can probe central government officials for corruption

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

শুধু সিবিআই নয়, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে পারে রাজ্য পুলিশও! দুর্নীতি দমন সংস্থাগুলির এক্তিয়ারের সীমানা স্পষ্ট করে জানাল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জেবি পারদিওয়াল এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চ জানিয়েছে, রাজ্য পুলিশ কর্তৃপক্ষ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৯৮-এর অধীনে অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের তদন্ত করতে পারবেন। এমনকি চার্জশিট দখল করার ক্ষমতা রয়েছে।

রাজস্থানের একটি ঘটনা নিয়ে মামলায় সুপ্রিম কোর্ট দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা কী হতে পারে তা ব্যাখ্যা করেছে। রাজস্থানে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে দুর্নীতিতে নাম জড়ায় এক কেন্দ্রীয় কর্মচারীর। দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের পর আদালতে চার্জশিটও পেশ করে। সেই চার্জশিটে ওই কেন্দ্রীয় কর্মচারীর নাম উল্লেখ ছিল। তবে তাঁর দাবি, তিনি একজন কেন্দ্রীয় কর্মচারী। তাই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করার এক্তিয়ার নেই রাজ্য পুলিশের। এই ধরনের তদন্ত শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, অর্থাৎ সিবিআই করতে পারে। তাই এই তদন্তভার দেওয়া হোক সিবিআইয়ের হাতে।

রাজস্থান হাই কোর্টে পুলিশি তদন্তের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই কেন্দ্রীয় কর্মচারী। তবে সে রাজ্যের উচ্চ আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই মামলায় স্পষ্ট জানিয়েছে, রাজ্যের সীমানার মধ্যে ঘটা যে কোনও ধরনের দুর্নীতির তদন্ত করার অধিকার আছে রাজ্য পুলিশের। কেন্দ্রীয় কর্মচারী হলেও তদন্তে কোনও বাধা নেই।

সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে স্পষ্ট করেছে, কোনও সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ‘যথাযথ সরকারের’ অনুমোদনের প্রয়োজনের কথা বলে আইন। তবে তার মানে এই নয় যে, কোনও তদন্ত নির্দিষ্ট কোনও সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। রাজ্যের সীমানার মধ্যে কোনও দুর্নীতি অভিযোগের তদন্ত করার সম্পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে সে রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখার। কোনও কেন্দ্রীয় কর্মচারীই দুর্নীতির তদন্ত এড়াতে ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় মর্যাদাকে’ ঢাল হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন না।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ফৌজদারি বিচারের ক্ষেত্রে কেন্দ্র-রাজ্য যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়। কোনও প্রশাসনিক ফাঁকফোকর দিয়ে যাতে দুর্নীতি গলে যেতে না-পারে, তা নিশ্চিত হবে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে বার বার প্রশ্ন তোলে দেশের বিরোধী দলগুলি। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্র সিবিআই, ইডির মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ক্ষমতা অপব্যবহার করছে। এ-ও অভিযোগ ছিল, কোনও কেন্দ্রীয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা থাকছে রাজ্য প্রশাসনের! সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে সেই বাধা দূর হল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞেরা।

Corruption Supreme Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy