কোন কুকুর কখন কী আচরণ করবে, তা বুঝবেন কী ভাবে! পথকুকুর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বুধবার এমনটাই বলল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বিক্রম নাথ বলেন, “এটি শুধু কুকুরের কামড়ানোর বিষয় নয়। কুকুরদের কারণে যে বিপদের আশঙ্কা থাকে, তা-ও (দেখা দরকার)। দুর্ঘটনাও ঘটে। আপনি কী ভাবে বুঝবেন সকালবেলা কোন কুকুর কেমন মুডে রয়েছে? আপনি তা জানেন না!”
সম্প্রতি দিল্লির পথকুকুর সংক্রান্ত এক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ঘিরে গোটা দেশে সমালোচনা শুরু হয়। প্রশ্ন উঠতে থাকে সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে। ওই নির্দেশের পরে আদালতে বহু আবেদনও জমা পড়ে। আদালতে কোনও মামলা বিচারাধীন থাকলে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আবেদন করে নিজেদের বক্তব্য বা আপত্তির কথা জানাতে পারে কোনও পক্ষ। আইনের পরিভাষায় একে ‘ইন্টারলোকিউটারি অ্যাপ্লিকেশন’ বলা হয়। এই ধরনের বহু আবেদন জমা পড়েছে শীর্ষ আদালতে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে।
সেখানে পশুপ্রেমীদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। শুনানির এক পর্যায়ে সিব্বল সওয়াল করেন, “যদি কোনও কুকুর দুরন্ত বা অবাধ্য হয়ে যায়, তাকে নির্বীজকরণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। তার পরে আবার ছেড়ে দেওয়া হোক।” তখন বিচারপতি মেহতা বলেন, “এর পর তো তা হলে কুকুরদের কাউন্সেলিংও করা যেতে পারে, যাতে তারা কাউকে না কামড়ায়।” বিচারপতি নাথও প্রশ্ন করেন, কখন কোন কুকুর কেমন আচরণ করবে, তা আগে থেকে কেউ কী ভাবে বুঝবেন!
আরও পড়ুন:
বিভিন্ন আবাসনের বাসিন্দাদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী অভীষ্টকুসুম গুপ্ত। তাঁর সওয়াল, কুকুরদের আবাসন থেকে বার করে দেওয়া উচিত। এর ফলে আবাসনের শিশুদের সমস্যা হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আবাসনের বাসিন্দাদেরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া উচিত। তখন সিব্বল যুক্তি দেন, কোনও বাঘ যদি মানুষের উপর হামলা করে, তা হলে কি বাঘেদের সঙ্গেও একই করা হয়? সব বাঘকেই কি তা হলে খাঁচাবন্দি করে দেওয়া উচিত? এই যুক্তি অবশ্য মানতে নারাজ বিচারপতি মেহতা। সিব্বলকে উদ্দেশ করে তিনি প্রশ্ন করেন, তা হলে মুরগিদের ক্ষেত্রে কী করবেন? আর ছাগলদের ক্ষেত্রেই বা কী হবে? বিচারপতির প্রশ্নে সিব্বল জানান, তিনি মুরগির মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। কোনও বন্দি প্রাণীর মাংস খাওয়ার কথা তিনি ভাবতেও পারেন না।
শুনানি পর্বে দিল্লির নেহরু পার্কে সম্প্রতি কুকুরের হামলার কথা উল্লেখ করেন বিচারপতি মেহতা। তখন সিব্বল বলেন, ‘‘যদি আপনি স্নেহসুলভ আচরণ করেন পশুদের সঙ্গে, তা হলে এমনটা হবে না। যদি আপনি তাদের বিরক্ত করেন, তা হলেই হামলা করবে। সময়ের অভাবে বুধবার এই মামলা সম্পূর্ণ শুনানি সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার ফের এই মামলাটি শুনবে শীর্ষ আদালতের তিন বিচারপতির বেঞ্চ।