তামিলনাড়ুতে আবার রাজ্যপাল আরএন রবির সঙ্গে সংঘাতে মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন। এ বার বিবাদের কারণ, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর হাতে ধৃত মন্ত্রী ভি সেন্থিল বালাজিকে বহাল রাখার প্রচেষ্টা।
গত মঙ্গলবার দিনভর ইডি বালাজির চেন্নাইয়ের দফতর এবং কারুরের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পরে তাঁকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত আগামী শুক্রবার পর্যন্ত তাঁকে ইডি হেফাজতে পাঠিয়েছে। বিদ্যুৎ এবং আবগারির মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী পদে থাকা বালাজির গ্রেফতারি তামিলনাড়ুর শাসকদল ডিএমকের কাছে ‘ধাক্কা’ বলেন মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
আরও পড়ুন:
স্ট্যালিনের পাশাপাশি, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়ালও এই ঘটনায় নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে চেন্নাইয়ের রাজভবনের দেওয়া একটি বিবৃতি এবং স্ট্যালিন সরকারের ‘প্রতিক্রিয়া’। রাজভবনের ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ধৃত বালাজিকে দফতরবিহীন মন্ত্রীর পদে রাখতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন। কিন্তু গুরুতর আর্থিক অপরাধের অভিযোগে ধৃত ওই নেতাকে কোনও অবস্থাতেই মন্ত্রিপদে বহাল রাখতে চাননি রাজ্যপাল।
আরও পড়ুন:
রাজভবনের ওই বিবৃতির পরে শনিবার তামিলনাড়ু সরকারের তরফে পাল্টা একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘মন্ত্রিপদে কে থাকবেন, কে বাদ পড়বেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা মুখ্যমন্ত্রীর।’’ তবে মন্ত্রিপদ থেকে না সরালেও মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন ধৃত বালাজির দফতরগুলি অন্য দুই মন্ত্রীকে দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী থাঙ্গাম তেন্নারাসুকে বিদ্যুৎ এবং আবাসনমন্ত্রী এস মুথুস্বামীকে আবগারি দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছর ধরেই তামিলনাড়ুতে রাজ্যপাল রবির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনের সংঘাত চলছে। দু’মাস আগেই সে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগের ক্ষমতা রাজ্যপালের হাত থেকে কেড়ে নিতে বিল পাশ হয়েছে তামিলনাড়ু বিধানসভায়।