E-Paper

ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান তারেক

বাংলাদেশে অন্তবর্তিকালীন সরকারের আমলে ভারত-বিরোধী জিগির সে দেশে মাত্রা ছাড়িয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্য বাংলাদেশের যতটা বেড়েছে ততটাই ভারত-বিরোধী তৎপরতা বেড়েছে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৯
তারেক রহমান।

তারেক রহমান। — ফাইল চিত্র।

কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী নন বিএনপি-র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোনও রকম রাখঢাক না করেই এ কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিএনপি-র চেয়ারম্যান জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেকের এই দু’টি বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেছে কূটনৈতিক মহল।

২০২৪ সালে অগস্টে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে শেখ হাসিনা অপসারিত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে সে দেশের অন্তর্বর্তিকালীন সরকার। স্বভাবতই, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে যে জাতীয় সংসদের নির্বাচন হতে চলেছে তাতে অংশ নিতে পারছে না আওয়ামী লীগ। ওই সাক্ষাৎকারে নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বাইরে রাখা নিয়ে তারেক সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি। জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী তিনি নন। তাঁর কথায়, ‘‘আজ যদি একটি দলকে নিষিদ্ধ করা হয়, তা হলে আগামিকাল আমার দলকেও নিষিদ্ধ করা হবে না, এমন নিশ্চয়তা কোথায়?’’ এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছে, ভারত-সহ ইউরোপের বহু দেশ থেকে বলা হচ্ছে বাংলাদেশে নির্বাচনে সব পক্ষের অংশগ্রহণ জরুরি। সে দিকে নজর রেখেই রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধের বিরোধিতার কথাটি তুলেছেন তারেক।

বাংলাদেশে অন্তবর্তিকালীন সরকারের আমলে ভারত-বিরোধী জিগির সে দেশে মাত্রা ছাড়িয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্য বাংলাদেশের যতটা বেড়েছে ততটাই ভারত-বিরোধী তৎপরতা বেড়েছে। অনেকেই মনে করেন, ভারত-বিরোধী জিগিরে ইন্ধন রয়েছে অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসেরও। এই আবহে ভারত সম্পর্কে তাঁর দলের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন তারেক। বিএনপি-র চেয়ারম্যানের কথায়, ‘‘দেশের মানুষের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেব। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গেও সুসম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’’ কূটনীতিকদের একাংশের মতে, তারেকের এই বক্তব্য প্রকারান্তরে নয়াদিল্লিকে বার্তা। তাঁর দল সরকার গড়লে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক যে ইতিবাচক হবে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন তারেক। কারণ, বাংলাদেশের তিন দিকে রয়েছে ভারতের সীমান্ত। স্বভাবতই, ভারতের প্রতি বৈরী মনোভাব নিয়ে চললে আখেরে যে বাংলাদেশের ক্ষতি তা বিলক্ষণ বুঝতে পারছেন বিএনপি-র চেয়ারম্যান।

এ দিকে, শেরপুরে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে এক জামাত কর্মীর মৃত্যুতে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে ইউনূস সরকার। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বিবৃতি দিয়ে বলেছে, ‘বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী-সহ সব দলের প্রতি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রদর্শন এবং সমর্থকদের সংযম নিশ্চিত করতে আহ্বান জানাচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হিংসা, ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণহানির জায়গা নেই’। ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে বিএনপি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Tarique Rahman bnp

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy