কিছুটা নজিরবিহীন ভাবেই আজ বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে হওয়া রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বক্তব্য চলাকালীন বিক্ষোভ দেখালেন কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলের সাংসদেরা। এতে রাষ্ট্রপতি ও সংসদের গরিমা ক্ষুণ্ণ হয়েছে এই যুক্তিতে বিরোধীদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছে বিজেপি।
আজ অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শুরু করা মাত্র ভিবি-জি রাম জি আইন প্রত্যাহার করে অতীতের মনরেগা আইন ফেরানোর দাবিতে সরব হন কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের একাংশ।
আজ সকালে কংগ্রেসের ডাকা বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও, ভিবি-জি রাম জি এবং এসআইআর প্রত্যাহারের দাবিতে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির সঙ্গে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান কিছু তৃণমূল সাংসদ। যা নিয়ে আজ তৃণমূলকে আক্রমণ শানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নড্ডা। বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতি আজ যখন বন্দেমাতরম্ গান ও তাঁর স্রষ্টা বঙ্কিমবাবুকে স্মরণ করছিলেন তখন কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়ার দলগুলি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তখন তৃণমূলের সাংসদেরা হট্টগোলে অংশ নেন।’’ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, রাষ্ট্রপতি বক্তব্যের সময় হট্টগোল করে সংসদ ও রাষ্ট্রপতির গরিমা নষ্ট করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নিজের বক্তব্যের মাঝপথে সরকার সাফল্যের বর্ণনা করতে গিয়ে ভিবি-জি রাম জি আইন চালুর প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে ফের মনরেগা ফেরানোর দাবিতে সরব হন কংগ্রেস-সহ বিরোধী সাংসদেরা। যা নিয়ে সংসদীয়মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতি যখন বি আর অম্বেডকর, বিরসা মুন্ডা, ভূপেন হাজারিকা, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অবদান স্মরণ করছিলেন, তখন বিরোধীরা হট্টগোল করছিলেন।’’
সমাজমাধ্যমে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গের পোস্ট, ‘প্রতি বছর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা প্রতি বার রাষ্ট্রপতির প্রায় একই ভাষণ অনুমোদন করে—সত্যতা বা জবাবদিহি ছাড়া একই দাবি করা হয়’।
বক্তব্যে তিন বার পশ্চিমবঙ্গের কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, আত্মনির্ভর না হলে স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।’’ রাষ্ট্রপতির বক্তব্য়, কেন্দ্র দেশকে আত্মনির্ভর করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)