Advertisement
E-Paper

ভিড় নেই চিত্রমেলায়, হতাশ শিল্পীরা

দেশ-বিদেশের শিল্পীরা এলেও বরাক চিত্রমেলায় লোক সমাগম হল না।শিলচরের সাধারণ জনতার অনাগ্রহে হতাশই হয়েছেন বাংলাদেশের নার্গিস পারভিন, নেপালের শ্যামসুন্দর যাদব, পশ্চিমবঙ্গের অভিজিৎ রায়চৌধুরী, গোয়ালপাড়ার গোকুল পাল। ক্ষোভ-হতাশা লুকিয়ে রাখতে পারেননি আয়োজক বরাক আর্ট অ্যান্ড ক্রাফটের কর্মকর্তারাও।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৩:১২

দেশ-বিদেশের শিল্পীরা এলেও বরাক চিত্রমেলায় লোক সমাগম হল না।

শিলচরের সাধারণ জনতার অনাগ্রহে হতাশই হয়েছেন বাংলাদেশের নার্গিস পারভিন, নেপালের শ্যামসুন্দর যাদব, পশ্চিমবঙ্গের অভিজিৎ রায়চৌধুরী, গোয়ালপাড়ার গোকুল পাল। ক্ষোভ-হতাশা লুকিয়ে রাখতে পারেননি আয়োজক বরাক আর্ট অ্যান্ড ক্রাফটের কর্মকর্তারাও। স্বপন সিংহ জানান, ২০০৬ সালে দিল্লি থেকে ইন্দিরা গাঁধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টস, গুয়াহাটি থেকে শঙ্করদেব কলাক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। বেশ কিছু ছবি কিনেও নিয়েছিলেন তাঁরা। সেই প্রথম এবং শেষ আসা। লুতফুর রহমান শোনান, তিন বছর ধরে তাঁরা মেলার শেষ দিনে ছবি-নিলামের ব্যবস্থা করছেন। তেমন কেউ তাতে অংশ নিতে যান না। যাঁরা উপস্থিত থাকেন, তাঁরাও ছবি কেনায় আগ্রহ দেখান না। তাই এ বার বিষয়টিকে বাদ দিতেই চেয়েছিলেন আয়োজকদের একাংশ। রাজশাহির নার্গিস অবশ্য ভরসা দেন তাঁদের। জানিয়েছেন, রাধাকৃষ্ণের ছবি আঁকেন বলে কত লড়াই করেই না টিঁকে থাকতে হচ্ছে তাঁকে। মেলায় লোক না আসা সমস্যাই নয়।

ভারতে চিত্রমেলায় আসছেন বলে অন্যদের ছবিও সঙ্গে নিয়ে এসেছেন নেপালের শ্যামসুন্দর। মৈথিলি শিল্পে বিস্মিত করেন সবাইকে। মুর্শিদাবাদের অ্যাকাডেমি অব আর্ট ইউনিভার্সের ডিরেক্টর অভিজি রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘শিল্পের আন্দোলনে সামিল বরাক উপত্যকাও।’’ আয়োজকদের অন্যতম স্বপনবাবু বলেন, ‘‘আগে জায়গা কম হতো বলে এখন বিপিন পাল সভাস্থলে মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। গত বছরও লোকজন এত কম হয়নি।’’ এ বার কেন এই অবস্থা, পরবর্তী সময়ে তা পর্যালোচনা করবেন তাঁরা।

Advertisement

নজরকাড়া ছবি ছিল বেশ কিছু। এর মধ্যে অর্কিডের সভাপতি পুলক দত্ত খড়ের সাহায্যে বিশেষ ধরনের ছবি তৈরি করেছেন। খড়ের যে কী অদ্ভুত রঙ হতে পারে, তাঁর তৈরি ‘পথের পাঁচালি’, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’, ‘গণেশ’-এর সামনে দাঁড়িয়ে তা-ই ভাবেন দর্শনার্থীরা। নজর কেড়েছে স্বপন সিংহের পুরনো টিন-লোহায় তৈরি জাঙ্ক ‘স্কাল্পচার’-ও। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা মূল্যবান ভাস্কর্য মেলায় তুলে ধরেছেন। সুপারি ও সুপারির খোলের নানা কাজ প্রদর্শন করান গৌরশঙ্কর নাথ। সাগর রায়, গৌতম ঘোষ, বিশ্বজিৎ দত্ত, অরুণ পালের শিল্পকর্মের কথাও উল্লেখ করতে হয়।

তাঁদের কাজ দেখে অতিথিরাও খুশি। সবাই বলছিলেন, এত বড় চত্বর জুড়ে আঁকার মেলা বসে, অন্যত্র অনেকে ভাবতেও পারেন না। পরিচিত শিল্পীদের সঙ্গে তিন শতাধিক শিশু-কিশোরের ছবিও প্রদর্শিত হয়েছে, তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু এর পরই সেই আক্ষেপ, তাদের অভিভাবকরাও যদি সবাই মেলায় আসতেন!

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy