জলের পাইপ সারাই করতে রাস্তায় গর্ত খুঁড়ে নীচে নেমে কাজ করছিলেন কয়েক জন শ্রমিক। হঠাৎ উপর থেকে মাটির ঢিবি ধসে পড়ল এক তরুণ শ্রমিকের উপর। অন্য শ্রমিকেরা তাঁকে বাঁচানোর শত চেষ্টা করলেও সময়ের কাছে হার মানতে হয় সকলকে। মাটির তলায় চাপা পড়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান তরুণ শ্রমিক। রাস্তার ধারে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায় সেই দুর্ঘটনার দৃশ্য ধরা পড়েছে। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় সেই ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়েছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
আরও পড়ুন:
‘আলের্তা মুন্দিয়াল’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলের পাতায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে যে, রাস্তায় গর্ত খুঁড়ে পাইপ সারাইয়ের কাজে ব্যস্ত ছিলেন কয়েক জন শ্রমিক। হঠাৎ মাটির ঢিবি ধসে পড়ে যায় এক তরুণের উপর। মাটির তলায় চাপা পড়ে যান তিনি। ঘটনাস্থলে তদারকির জন্য এক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। মাটি খোঁড়ার জন্য সেখানে একটি ক্রেন রাখা ছিল। সঙ্গে সঙ্গে ক্রেনচালককে মাটি খুঁড়ে তোলার নির্দেশ দেন তিনি।
দু’-তিন বারের চেষ্টায় গভীর গর্ত থেকে মাটির দলা তোলা হলে তরুণের নাগাল পান অন্য শ্রমিকেরা। তাড়াহুড়ো করে তাঁকে গর্ত থেকে তুলে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা জানান, ঘটনাস্থলে মাটির তলায় চাপা পড়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন সেই তরুণ।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এই ঘটনাটি শনিবার বিকেলে উত্তরপ্রদেশের আলিগঢ়ের রেল রোডের অপ্সরা সিনেমাহলের সামনে ঘটেছে। মৃত তরুণের নাম মহিন্দ্র সিংহ (৩০)। নিহতের পরিবারের সদস্যেরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কাজ করানোর অভিযোগ দায়ের করেছেন। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, আলিগড়ের বেশ কয়েকটি এলাকার রাস্তা খোঁড়া রয়েছে অথবা নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
আরও পড়ুন:
সব জায়গায় ব্যারিকেড দিয়ে জায়গাগুলি ঘেরার ব্যবস্থাও নেই। এই প্রসঙ্গে পুর কমিশনার প্রেমপ্রকাশ মীনা জানিয়েছেন, বর্তমানে এলাকা জুড়ে রাস্তা, পয়ঃনিষ্কাশন ও নর্দমা নির্মাণের কাজ চলছে। প্রতিটি এলাকায় ব্যারিকেড, সতর্কীকরণ চিহ্ন এবং সুরক্ষা সরঞ্জাম-সহ সমস্ত নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে। পুর কমিশনারের দাবি, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করতে সমস্ত নির্মাণস্থলে সুরক্ষাবিধি আরও জোরদার করা হবে। দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিহতের পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন।