রাজ্যে বাজ পড়ে এক মহিলা-সহ আরও তিনজনের মৃত্যু হল। ফলে গত ৩৬ ঘণ্টায় বাজ পড়ে ও ঝড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল নয়। পাশাপাশি, অরুণাচলেও সাইক্লোনে বহু ঘর ভেঙেছে। মারা গিয়েছে এক শিশু ও এক কিশোরী। দুই রাজ্য মিলিয়ে প্রাক্-বর্ষার দুর্যোগে সরকারি হিসেবে মৃতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২। যদিও বেসরকারি মতে সংখ্যাটি আরও বেশি।
অসমের মঙ্গলদৈ জেলার ৪ নম্বর বোয়াকমারি গ্রামে বাজ পড়ে বারেক আলি ও তাঁর স্ত্রী সাজিদা বেগমের মৃত্যু হয়। বরপেটার সর্থেবাড়িতে বজ্রপাতে মারা যান আক্কেল আলি নামে এক ব্যক্তি। তবে রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির এখন অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। সরকারি হিসেবে বর্তমানে রাজ্যের শিবসাগর, চড়াইদেও ও ডিব্রুগড় জেলায় বন্যা চলছে। বন্যা কবলিতের সংখ্যা হাজার পাঁচেক। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রাক্-বর্ষার ঝড়-বৃষ্টি-বন্যায় অসমে এখনও পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট ১০৪১টি গ্রামে ৩৯,৫৯৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়ি ভেঙেছে প্রায় ৩৮ হাজার।
অন্য দিকে, গত কাল সন্ধ্যায় অরুণাচলপ্রদেশের চাংলাং জেলার ডিয়ুনে সাইক্লোনের জেরে বহু বাড়ি ভাঙে। মারা যায় ১৪ বছর বয়সী কালাসোগি চাকমা ও সিজি চাকমা নামে এক শিশুকন্যা। মিনিট কুড়ির ঝড়ে অভয়পুর, দুমপানি, জ্যোতিপুর, শান্তিপুর, বিজয়পুর ও দিয়ুন শহর জুড়ে তাণ্ডব চলে। গাছ ভেঙে বন্ধ হয় যান চলাচল। বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বহু গ্রামে ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। এ নিয়ে প্রাক্-বর্ষায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অরুণাচলেও ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কালিখো পুল ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। রাজ্যের বিপর্যয় নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে একটি রিপোর্টও পাঠানো হয়েছে।