পশ্চিমবঙ্গ থেকে নিয়ে যাওয়া ‘এসআইআরের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত’দের পরিজনদের দিল্লির বঙ্গভবনে হেনস্থার অভিযোগে লোকসভার ওয়েলে নেমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সামনে দাঁড়িয়ে ‘ধিক্কার’ স্লোগান তুললেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আবু তাহের খান।
ঘটনার সময় সংসদের যৌথ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাবের উপর বক্তৃতা করছিলেন বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য। সে সময় হঠাৎই ওয়েলে নেমে এসে মোদী-শাহের আসনের সামনে এসে তাঁদের নাম করে ‘ধিক্কার ধিক্কার’ স্লোগান দিতে থাকেন কল্যাণ। কয়েক সেকেন্ড পরে তাহেরও ওয়েলে নেমে এসে তাঁর সঙ্গী হন। সেই সময় শাহকে হাত নেড়ে কিছু বলতে দেখা যায়।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এক সময় কল্যাণের নাম করে তাঁকে এমন আচরণ থেকে বিরত হওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু তার পরেও স্লোগান দিতে থাকেন দুই তৃণমূল সাংসদ। বিরোধী এবং সরকারপক্ষের বেঞ্চ থেকেও স্লোগান-পাল্টা স্লোগান ওঠে। শেষ পর্যন্ত স্পিকার বিড়লা লোকসভার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীকে ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাবের উপর বক্তৃতার জন্য আমন্ত্রণ জানানোর পর তৃণমূল সদস্যেরা তাঁদের আসনে ফিরে যান।
আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজ চলছে। প্রথম থেকেই তৃণমূল এর বিরুদ্ধে সরব। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য সোমবার বিকেল ৪টেয় নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের প্রতিনিধিদলকে সময় দিয়েছে। ওই বৈঠকে ‘এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্ত’দেরও নিয়ে যাবেন মমতা। পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি মৃত্যুর জন্য এসআইআরকে দায়ী করেছে মৃতদের পরিবার। সেই সমস্ত পরিবারের সদস্যদের দিল্লিতে নিয়ে গিয়েছেন মমতা। তাঁদের রাখা হয়েছে বঙ্গভবনে। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে বঙ্গভবনের সামনে আচমকাই দিল্লি পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়ে। অভিযোগ, এলাকা পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ। বঙ্গভবন ঘিরে রাখা হয়েছে এবং ভিতরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই খবর পেয়েই সেখানে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে শাহের মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তোপও দাগেন মমতা।