Advertisement
E-Paper

‘আইপ্যাকে বেআইনি ভাবে হানা দিয়েছিল ইডি’, রাজ্যের তরফে পাল্টা হলফনামায় মামলা খারিজের আর্জি সুপ্রিম কোর্টে

শীর্ষ আদালতে রাজ্যের তরফে হলফনামায় দাবি করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের করার কোনও মৌলিক অধিকার নেই ইডির। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে আবার আইপ্যাক মামলার শুনানি হবে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৩৬
Hearing in of Supreme Court on the case related to ED raid in I-PAC Chief residence and office in Kolkata

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আইপ্যাক-কাণ্ডে এ বার সুপ্রিম কোর্টে পাল্টা হলফনামা জমা দিল রাজ্য। কলকাতা হাই কোর্টে এ সংক্রান্ত একটি মামলা ইতিমধ্যেই দায়ের হয়েছে জানিয়ে ইডির মামলা খারিজ করার আবেদন জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারে তরফে। ইডির ওই মামলায় আইপ্যাকের দফতরে অভিযানের সময় ‘রাজ্য কর্তৃপক্ষের’ বিরুদ্ধে বেআইনি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে আবার আইপ্যাক মামলার শুনানি হবে।

শীর্ষ আদালতের বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে রাজ্যের তরফে হলফনামায় দাবি করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের করার কোনও মৌলিক অধিকার নেই ইডির। যে ভাবে তল্লাশি চালানো হয়েছে, সে ভাবে তল্লাশি চালানো যেতে পারে না। কেন আইপ্যাককে কোনও আগাম নোটিস দেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নও তোলা হয়েছে রাজ্যের তরফে। সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারায় (সাংবিধানিক প্রতিবিধান সংক্রান্ত মৌলিক অধিকার) ইডি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল ইডি।

রাজ্য সরকারের তরফে হলফনামায় জানানো হয়েছে, আইপ্যাক প্রধানের বাড়ি ও দফতরে ইডির অভিযান সংবিধানের ২১ নম্বর ধারার (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) পরিপন্থী। প্রসঙ্গত, গত ১৫ জানুয়ারি দুই বিচারপতির বেঞ্চ ইডির বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের দায়ের করা তিনটি এফআইআরের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি, মামলায় সব পক্ষকে (ইডির বিরুদ্ধে মামলাকারী সব পক্ষ) নোটিস জারি করেছে দুই বিচারপতির বেঞ্চ। দু’সপ্তাহের মধ্যে তাদের আদালতে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে যে দুই এলাকায় ইডি তল্লাশি চালিয়েছিল, সেখানে এবং তার আশপাশের এলাকার সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।

গত ৮ জানুয়ারি সকালে বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার সূত্রে কলকাতায় জোড়া অভিযান চালিয়েছিল ইডি। একটি দল গিয়েছিল সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে। অন্য দলটি গিয়েছিল লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। আইপ্যাক রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা। তাদের দফতরে ইডির হানার কথা শুনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, ইডির তল্লাশি চলাকালীনই প্রতীকের বাড়িতে ঢুকে নথিপত্র, ফাইল এবং ল্যাপটপ বার করে আনেন তিনি। পরে সল্টলেকে সংস্থার দফতরে গিয়েও একই কাজ করেন। তার পরেই তদন্তে বাধা পাওয়ার অভিযোগ তুলে সে দিনই ইডি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। কিন্তু ৯ জানুয়ারি ওই আবেদনের শুনানি আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত মুলতুবি করে দিয়েছিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ।

এর পরে ইডির তরফে পাল্টা দাবি করা হয়, বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত এই তল্লাশি অভিযান। তার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই। তবে সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। আইপ্যাক দফতরে ইডির অভিযান নিয়ে পাল্টা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করে তৃণমূল। তাতে ইডি এবং আইপ্যাককে যুক্ত করা হয়। কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে করা মামলায় তৃণমূলের বক্তব্য ছিল, ভোটের আগে ইডির অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের দলের সংবেদনশীল নথি, প্রার্থীতালিকা এবং ‘নির্বাচনী কৌশল’ চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও ইডির তরফে সেই অভিযোগ খারিজ করা হয়েছে।

Pratik Jain IPAC CM Mamata Banerjee ED Supreme Court of India
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy