ব্যাগ থেকে মিলেছে দু’টি স্যাটেলাইট ফোন। সেই কারণে শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে আটক করা হল আমেরিকার দুই নাগরিককে। রবিবার বিমানবন্দরে তল্লাশির পর প্রথমে ওই দু’জনকে আটক করেছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। পরে তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কী কারণে তাঁরা স্যাটেলাইট ফোন নিয়ে ঘুরছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, সরকারি অনুমতি ছাড়া ভারতে স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করা যায় না। অনুমতি ছাড়া এই ধরনের ফোন কেউ ব্যবহার করলে, তাঁকে আটক কিংবা গ্রেফতার করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাজেয়াপ্ত করা হবে স্যাটেলাইট ফোনটিও।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, স্যাটেলাইট ফোন সঙ্গে রাখতে হলে কেন্দ্রের টেলি যোগাযোগ মন্ত্রকের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। নিরাপত্তাগত কারণে ভারতীয়রা তো বটেই, অন্য দেশের নাগরিকরাও এই দেশে স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করতে পারেন না। এই নিয়ম থাকা সত্ত্বেও অতীতে স্যাটেলাইট ফোন রাখায় আটক করা হয়েছে বহু বিদেশিকে। গত মে মাসে এই কারণে পুদুচেরি বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছিল। তার পর তদন্তে নামে পুলিশ।
ভারতে আসা অন্য দেশের নাগরিকদের স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহারে রাশ টানতে সম্প্রতি সব বিমান সংস্থাকে একটি নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। সেখানে বলা হয় ভারতে যাওয়া কোনও বিমান গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে বিষয়টি যাত্রীদের জানিয়ে দেওয়া হবে। তার পরেও অবশ্য একাধিক বার বিমানবন্দরে স্যাটেলাইট ফোন নিয়ে আটক হয়েছেন বহু মানুষ। এই পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইট ফোন রাখলে বড় অঙ্কের জরিমানা (প্রায় ২ কোটি) নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
অন্য দিকে, পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার বর্ষপূর্তির আগে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরকে। বিশেষ ভাবে নজর রাখা হচ্ছে উপত্যকার পর্যটনস্থলগুলির উপরে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যটনস্থলে থাকা দোকানদার-সহ অন্যান্যদের পরিচয় সংবলিত কিউআর লাগানো হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে প্রায় সকলেই ছিলেন পর্যটক। সেই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয় পহেলগাঁওয়ের বহু পর্যটনস্থল। গত সেপ্টেম্বর মাসে সেগুলি ফের খুলে দেওয়া হয়েছে।